ইরাকেও তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এদিকে উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে দৈনিক প্রায় ১৩ লক্ষ ব্যারেলে নেমে এসেছে। যুদ্ধের আগে দক্ষিণের তিন অঞ্চল থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৪৩ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন হত।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 March 2026 07:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান-ইজরায়েল সংঘাত (Iran-Israel War) গোটা বিশ্বের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি যত জটিল হচ্ছে, তার আঁচ গিয়ে পড়ছে বিশ্বের তেলবাজারে (Global Oil Market)। এরমধ্যেই রবিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেল। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম আবার তেলের দাম এতটা বেড়ে গেল।
রবিবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে দেখা যায়। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক Brent crude নিউইয়র্কে সন্ধ্যার দিকে ব্যারেলপিছু ১০৪ ডলারেরও বেশি দামে পৌঁছে যায়। অন্যদিকে আমেরিকার প্রধান সূচক West Texas Intermediate-এর দামও ১০০ ডলার পেরিয়ে প্রায় ১০৮ ডলারে উঠে যায়।
গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ১২.৬ শতাংশ বেড়ে ১০৪ ডলারে পৌঁছায়, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়ে যায়। গত সপ্তাহেই মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে, যা ১৯৮৩ সালে তেলের ফিউচার ট্রেডিং শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক বৃদ্ধি বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবদুনিয়ার সংঘাতের (Middle East tension) কারণে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে তেল উৎপাদন ও পরিবহণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কুয়েত, যা OPEC-এর পঞ্চম বৃহত্তম উৎপাদক দেশ, ইতিমধ্যেই সতর্কতামূলকভাবে তেল উৎপাদন ও রিফাইনারির কাজ কমাতে শুরু করেছে। কুয়েত জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের হুমকির কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরাকেও তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এদিকে উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে দৈনিক প্রায় ১৩ লক্ষ ব্যারেলে নেমে এসেছে। যুদ্ধের আগে দক্ষিণের তিন অঞ্চল থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৪৩ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন হত।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও (UAE) তাদের সমুদ্রের তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে রাখছে। দেশটির জাতীয় তেল সংস্থা Abu Dhabi National Oil Company জানিয়েছে, সংরক্ষণ ক্ষমতার কথা মাথায় রেখেই উৎপাদনের মাত্রা সামঞ্জস্য করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে বিশ্বে মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহণ হয়। কিন্তু যুদ্ধের পরিস্থিতিতে অনেক তেলবাহী জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলায় তেল রফতানির গতি কমে এসেছে। ফলে অনেক জায়গায় তেল জমে থাকছে, কিন্তু তা গন্তব্যে পৌঁছানোর মতো জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে সংঘাত থামার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনও মেলেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যদিও দাবি করেছেন, যুদ্ধ প্রায় জেতা হয়ে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে।
মার্কিন প্রশাসনের জ্বালানি বিষয়ক আধিকারিক জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিক হতে পারে। তবে তা পুরোপুরি হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।