পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তাপ এবার সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ইরান দাবি করেছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। এই ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

শেষ আপডেট: 4 March 2026 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের (Iran Israel War) উত্তাপ এবার সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ইরান দাবি করেছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। এই ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের আর্থিক ঘাটতি (Current Account Deficit) এবং টাকার স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালীকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ ‘চোকপয়েন্ট’। পারস্য উপসাগর থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল এই পথ দিয়ে বিশ্ববাজারে যায়। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের (IRGC) নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে ইরানের নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” সেই সঙ্গে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে—এই পথ দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো মিসাইল বা ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ভারতের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে
ব্যাঙ্কিং সংস্থা আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক তাদের এক রিপোর্টে জানিয়েছে, যদি দীর্ঘদিন তেলের দাম চড়া থাকে তাহলে ভারতের অর্থনীতিতে একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।
সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হল— আর্থিক ঘাটতি (CAD) বাড়তে পারে। সরকারের উপর ভর্তুকির চাপ বাড়তে পারে, বিশেষ করে এলপিজি ও সার খাতে বেশি টাকা গুণতে হবে। টাকার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। বিদেশি লগ্নিকারীরা বাজার থেকে টাকা তুলে নিতে পারেন। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তেলের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রায় ০.১৫ শতাংশ কমে যেতে পারে।
ভারতের তেল মজুত কতদিন চলবে
আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো মজুত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ভারতের কাছে প্রায় ২৫ দিনের ক্রুড অয়েলের মজুত রয়েছে। রিফাইনারিগুলির কাছেও প্রায় ২৫ দিনের ডিজেল, পেট্রোল ও এলপিজির মজুত রয়েছে। অর্থাৎ তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও কিছুদিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।
রাশিয়া হতে পারে বিকল্প
প্রয়োজনে ভারত সাময়িকভাবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়াতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ১৯ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে।
তেলের দাম বাড়লেও পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়বে?
আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্কের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও আপাতত দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দাম খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেলের বিপণন সংস্থাগুলি অনেক সময় বিশ্ববাজারের ওঠানামা নিজেদের মধ্যে সামাল দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে ওপেক
এদিকে তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওপেক প্লাস ইতিমধ্যেই উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। ফলে হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা যদি সাময়িক হয়, তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।