শনিবারই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজকেশিয়ান (President Masoud Pezkeshian) জানিয়েছিলেন, তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলিকে আক্রমণ করবে না। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা হয়, তাহলে দেশকে রক্ষা করার অধিকার তাদের রয়েছে।

অবস্থান বদল ইরানের!
শেষ আপডেট: 8 March 2026 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাত (Iran-Israel-US War) ক্রমশ বাড়ছে। রবিবার আরবদুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি (Middle East tension) নবম দিনে পড়ল। এখনও তিন পক্ষের তরফে হামলা অব্যাহত। এদিন সকালেই কুয়েত বিমানবন্দরের (Kuwait Airport) জ্বালানি ট্যাঙ্কার উপর হামলা চালানো হয়, সৌদিতে ১৫টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়, আর কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ইরানি হামলার পর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়, যেখানে এক পাকিস্তানি চালক নিহত হয়েছেন।
শনিবারই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজকেশিয়ান (President Masoud Pezkeshian) জানিয়েছিলেন, তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলিকে আক্রমণ করবে না। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা হয়, তাহলে দেশকে রক্ষা করার অধিকার তাদের রয়েছে। তাঁর দাবি, ইরান যে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান চালাচ্ছে তা শুধুমাত্র সেই সব জায়গা ও ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই, যেখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ হানা হচ্ছে। তেহরান দাবি করেছে, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালায়নি। তাদের টার্গেট ছিল আরবদুনিয়ার মার্কিন সামরিক ঘাঁটি।
কুয়েতের জাতীয় তেল সংস্থা (Kuwait's national oil company) জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে তাদের অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন সাময়িকভাবে কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি 'শত্রু ড্রোন' মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। ড্রোন হামলার (Drone attack) ফলে কিছু নাগরিক সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতারে ইরান থেকে ছ'টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে।
আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে শক্তিশালীভাবে বেরিয়ে আসবে। দুবাইয়ে পাম জুমেরাহ, বার্জ আল আরব ও মার্কিন কনস্যুলেটেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংযুক্ত আমিরশাহিতে এখনও পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছেন, সবাই বিদেশি নাগরিক।
বাহরিনেও ৯২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৫১টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। রাজধানী মানামায় ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ পড়ে এক ব্যক্তির আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। লেবাননে হোটেলে হামলায় চারজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” না করে, তাহলে তাদের সঙ্গে কোনও চুক্তি বা সমঝোতার প্রশ্নই উঠছে না (Trump wants unconditional surrender Iran or no deal policy)।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কূটনৈতিক কোনও পথ খোলার আগে তেহরানকে সম্পূর্ণভাবে নতি স্বীকার করতে হবে (US Iran Relations)।
ট্রাম্প লেখেন, আত্মসমর্পণের পর এবং “একজন আদর্শ ও গ্রহণযোগ্য নেতা বা নেতৃত্ব” নির্বাচিত হলে আমেরিকা ও তার বহু মিত্র এবং অংশীদার দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। তাদের লক্ষ্য হবে ইরানকে ধ্বংসের প্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনা। সেই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতেও সাহায্য করা হবে বলে জানান তিনি।