রাজধানী তেহরান সহ বিভিন্ন শহরে ঘন ঘন বেজে উঠছে সাইরেন। শত্রু বিমান দেখলেই দেশবাসীকে সতর্ক করছে সে দেশের বিপ্লবী সেনা বাহিনী। দেশটির নাগরিকদের চরম আতঙ্কে দিন কাটছে।

শেষ আপডেট: 20 March 2026 16:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজধানী তেহরান সহ বিভিন্ন শহরে ঘন ঘন বেজে উঠছে সাইরেন। শত্রু বিমান দেখলেই দেশবাসীকে সতর্ক করছে সে দেশের বিপ্লবী সেনা বাহিনী। দেশটির নাগরিকদের চরম আতঙ্কে দিন কাটছে।
তবে এরই মধ্যে উৎসবেও শামিল হচ্ছেন মানুষ। শুক্রবার, ২০ মার্চ ইরানের ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন। স্থানীয় ভাষায় 'নওরোজ' বা বছরের শুরু। ইরানি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বসন্তের প্রথম দিনটিতে সে দেশের নববর্ষের সূচনা হয়ে থাকে।
এই দিনকে সামনে রেখে মানুষ নতুন পোশাক এবং অন্যান্য সামগ্রী ও নানা ধরনের মিষ্টি সহ বৈচিত্র্যময় খাদ্য সামগ্রী কিনে থাকে। এর পাশাপাশি চলে ঘরদোর পরিষ্কার করা। ইরানের তিন হাজার বছরের পুরনো এই উৎসবের সময় বহু বিদেশি সে দেশে যেতেন। এবার সরকারি উদ্যোগে উৎসবের কোনও আয়োজন হয়নি। যেটুকু যা হচ্ছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে।
তাই, যে কোন সময় ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত করতে পারে জেনেও শুক্রবার সকাল থেকে তেহরানসহ সব শহরেই হাটবাজার জমজমাট। হাজার হাজার মানুষ বাজারে জড়ো হয়েছেন হরমোজ উৎসব পালনের জন্য। চুটিয়ে চলছে কেনাকাটা।

'নওরোজ' উৎসবে মেতেছে ইরান
তবে বিষাদময় ভিন্ন চিত্রও আছে। ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানীর তেহরান। শহরের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে ক্ষয়ক্ষতি বেশি। সেখানে অসংখ্য বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার পর এখন সেখানে কবরের নৈঃশব্দ বিরাজ করছে।
তেহরানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বিবিসি। ইরানের রাজধানীর বহু মানুষ বিবিসিকে বলেছে, যুদ্ধ আমাদের কাছে নতুন নয়। মৃত্যুর থেকেও দেশের ঐতিহ্য সংস্কৃতি অনেক বড়। এই আতঙ্কের পরিবেশেও আমরা বছরের নতুন দিনটিকে বরণ করে নিতে চাই।
তেহরানের উত্তর-পূর্বের দামাভান্দের পঞ্চাশোর্ধ নারী মিনা বলেন, অন্যান্য বছর এই সময়ে আমাদের ব্যস্ততার শেষ থাকে না। কখন যেন সময় ফুরিয়ে যায়। এখন প্রতিটি ঘণ্টাকে দিন মনে হচ্ছে। তবু এই আতঙ্কের মধ্যেই আমরা যথাসম্ভব উৎসব পালন করছি। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করেছি। যার যা সামর্থ্য কেনাকাটা করছি।