নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানের পক্ষে আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারা সম্ভব নয়, ব্যালিস্টিক মিসাইলও তৈরি করতে পারবে না। ফলে আমরা জিতছি, আর ইরান কার্যত ধ্বংসের মুখে।” বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, এই যৌথ সামরিক অভিযান ইরানের সামরিক শক্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে।
.webp.webp)
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
শেষ আপডেট: 20 March 2026 07:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহে নতুন করে আগুনে ঘি ঢাললেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। বৃহস্পতিবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, ইরান আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে (Iran uranium enrichment) বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম নয়। গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আমেরিকা-ইজরায়েলের লাগাতার যৌথ বিমান হামলার (US Israel strikes Iran) পরেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানের পক্ষে আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারা সম্ভব নয়, ব্যালিস্টিক মিসাইলও তৈরি করতে পারবে না। ফলে আমরা জিতছি, আর ইরান কার্যত ধ্বংসের মুখে।” বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, এই যৌথ সামরিক অভিযান ইরানের সামরিক শক্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে।
তাঁর কথায়, “আমরা এখন যেগুলো ধ্বংস করছি, সেগুলো হল সেই কারখানা, যেখান থেকে এই মিসাইলের উপাদান তৈরি হয়, এবং যে প্রযুক্তি দিয়ে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে।” নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের মিসাইল ও ড্রোন ভাণ্ডার ‘বিপুলভাবে দুর্বল’ হয়ে পড়েছে এবং তা সম্পূর্ণ ধ্বংসও করে দেওয়া হবে।
তবে ইরান যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা হারিয়েছে, এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ তিনি সামনে আনেননি।
আমেরিকাকে যুদ্ধে টেনে আনার অভিযোগ খারিজ
ইজরায়েল নাকি আমেরিকাকে এই সংঘাতে টেনে এনেছে, এমন অভিযোগও স্পষ্টভাবে খারিজ করেছেন নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য, “কেউ কি সত্যিই মনে করে, কেউ গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী করতে হবে বলে দিতে পারে? তিনি সবসময় আমেরিকার স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেন।”
নেতানিয়াহুর দাবি, এই ক্ষেত্রে আমেরিকার স্বার্থ এবং ইজরায়েলের সাফল্য, দুটোই একেবারে স্পষ্ট। “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সেনা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি একসঙ্গে কাজ করছে। আমরা দ্রুতগতিতে লক্ষ্য পূরণের দিকে এগোচ্ছি,” বলেন তিনি।
‘আমি বেঁচে আছি’, মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে কটাক্ষ
নিজের স্বাস্থ্যের গুজব নিয়েও শুরুতেই কটাক্ষ করেন নেতানিয়াহু। বলেন, “সবার আগে বলি, আমি বেঁচে আছি।” এরপর তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশংসা করে বলেন, এই জোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর দাবি, “আমরা গোটা আরব দুনিয়াকে রক্ষা করছি - আমি তো বলব, গোটা বিশ্বকেই।” একইসঙ্গে তিনি জানান, ইরান ইস্যুতে তাঁর এবং ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি এক। এমনকি, বিশ্ব ট্রাম্পের কাছে ‘ঋণী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাউথ পার্সে হামলা স্থগিত, দাবি ইজরায়েলের
ইরানের বড় গ্যাস ক্ষেত্রগুলিতে আপাতত আর হামলা চালানো হবে না বলেও জানান নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, “প্রথমত, ওই হামলা ইজরায়েল একাই চালিয়েছে। দ্বিতীয়ত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের ভবিষ্যতের হামলা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন, এবং আমরা তা মেনে চলছি।”
ইরানের নেতৃত্বে ফাটল, যুদ্ধ বাড়ার ইঙ্গিত
ইরানের নেতৃত্বে ভাঙনের ইঙ্গিতও দেন নেতানিয়াহু। তাঁর কথায়, “আমি সব তথ্য প্রকাশ করতে পারি না, কিন্তু স্পষ্টই ফাটল দেখা যাচ্ছে।” যদিও তিনি স্বীকার করেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকেও যেতে পারে, আবার ভেঙেও পড়তে পারে।
এখনও পর্যন্ত যুদ্ধ মূলত আকাশপথেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, স্থলযুদ্ধের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। “স্থল অভিযানের নানা সম্ভাবনা রয়েছে,” বললেও বিস্তারিত কিছু জানাননি।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে ইরান কে চালাচ্ছে, তা নিয়েও আমি নিশ্চিত নই। শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রবল চাপ ও টানাপড়েন চলছে।”
তবে এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে গড়াবে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু বলতে চাননি তিনি। “সেটা ইরানের মানুষের উপর নির্ভর করছে, তাঁরাই ঠিক করবেন কখন এবং কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবেন,” বলেন নেতানিয়াহু।