আমেরিকার মেরিল্যান্ডে প্রাক্তন প্রেমিকের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার ভারতীয় তরুণীর রক্তাক্ত দেহ। নিখোঁজ ডায়েরি দায়েরের পরই দেশ ছেড়েছে অভিযুক্ত।

মৃত নিকিতা
শেষ আপডেট: 5 January 2026 07:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নববর্ষের রাতে নিখোঁজ হয়েছিলেন। আমেরিকার (United States) মেরিল্যান্ডে (Maryland) প্রেমিকের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল এক ভারতীয় তরুণীর রক্তাক্ত দেহ। পুলিশের দাবি, ওই ফ্ল্যাটেই খুন হয়েছেন বছর ২৭-এর নিকিতা গদিশালা (Nikitha Godishala)। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক অর্জুন শর্মা (Arjun Sharma)। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির খুনের (First-degree and Second-degree Murder) অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে ধরা যায়নি এখনও।
পুলিশ জানাচ্ছে, নিকিতা গদিশালা পেশায় একজন ডেটা অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি অ্যানালিস্ট (Data and Strategy Analyst)। থাকতেন এলিকট সিটি (Ellicott City), হাওয়ার্ড কাউন্টি (Howard County) এলাকায়। ৩১ ডিসেম্বর, নববর্ষের আগের রাতে তিনি নিখোঁজ হন। ঘটনার পর ২ জানুয়ারি স্থানীয় পুলিশের কাছে নিখোঁজ ডায়েরি করেন তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক অর্জুন শর্মাই। পুলিশকে তিনি জানান, ৩১ ডিসেম্বর শেষবার নিকিতাকে তিনি নিজের অ্যাপার্টমেন্টে দেখেছিলেন। তারপর থেকে আর খোঁজ মেলেনি।
কিন্তু তদন্ত এগোতেই সামনে আসে ভয়াবহ তথ্য। ৩ জানুয়ারি পুলিশ অর্জুন শর্মার ওই অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে উদ্ধার হয় নিকিতার দেহ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট, কুপিয়ে খুন করা হয়েছে তাঁকে। তদন্তকারীদের অনুমান, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধে ৭টার কিছু পরেই এই খুনের ঘটনা ঘটে।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে তদন্তে। পুলিশ জানায়, যেদিন নিখোঁজ ডায়েরি করেন, সেদিনই অর্জুন শর্মা আমেরিকা ছেড়ে ভারতে (India) পালিয়ে যান। ফলে সন্দেহ আরও গভীর হয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, খুনের পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করতেই তিনি দেশত্যাগ করেন।
হাওয়ার্ড কাউন্টি পুলিশ (Howard County Police) জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত খুনের কোনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য (Motive) জানা যায়নি। তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তকে খুঁজে বার করতে ফেডারাল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার (Federal Law Enforcement Agencies) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন তাঁরা।
এদিকে ঘটনার প্রেক্ষিতে বিবৃতি দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস (Indian Embassy)। জানানো হয়েছে, নিকিতার পরিবারের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং সমস্ত রকম কনসুলার সহায়তা (Consular Assistance) দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত কথা বলছে দূতাবাস।
উল্লেখ্য, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) রয়েছে। তবে এই ধরনের গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তকে দেশে ফেরানো আইনি ও কূটনৈতিক দিক থেকে সময়সাপেক্ষ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আদালতের একাধিক ধাপ পেরিয়ে তবেই সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়।
নববর্ষের আনন্দ যে এমন নৃশংস পরিণতিতে শেষ হতে পারে, তা ভাবতেই পারছেন না নিকিতার পরিবার ও বন্ধুরা। এই খুনের ঘটনায় প্রবাসী ভারতীয় মহলেও তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ।