চিনা রাজনীতিবিদ ওয়াং জানান, তিনি চাইতেন না তাঁর মায়ের মৃত্যু অন্য কারও আনন্দের দিনে বাধা হয়ে দাঁড়াক। তিনি নিজেই ভারতীয় পরিবারটিকে জানিয়ে দেন যে, তাঁর মায়ের মৃত্যু শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছিল এবং চিনা সংস্কৃতি অনুযায়ী, এত দীর্ঘ জীবনকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেই ধরা হয়।
_5.jpg.webp)
ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 17 July 2025 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালয়েশিয়ার নেগেরি সেমবিলান রাজ্যের ছোট শহর তামপিন। ৫ জুলাই সেই শহরের রাস্তায় দেখা গেল এক বিরল দৃশ্য- একদিকে চলছিল ভারতীয় বিয়ের অনুষ্ঠান (Indian wedding), অন্যদিকে চিনা পরিবারে শোকযাত্রা (Funerals)। একপাশে বাজছিল সানাই, অন্যপাশে চলছিল শোকসংগীত। সম্পূর্ণ আলাদা দুটি সংস্কৃতি, সম্পূর্ণ বিপরীত দুটি উপলক্ষ। তবু কোনও অশান্তি নয়, বরং দুই পরিবারের মধ্যে দেখা গেল এক অন্যরকম বোঝাপড়া।
জানা যায়, স্থানীয় এক চিনা বংশোদ্ভূত (Local Democratic Action Party politician of Chinese origin) রাজনীতিবিদের মা সম্প্রতি প্রয়াত হন। তাঁর শেষকৃত্য ছিল ওই দিনই। আর রাস্তার অপর পাশে একটি কমিউনিটি হল ভাড়া করে বিয়ের আয়োজন করেছিল এক ভারতীয় পরিবার। দুই অনুষ্ঠান প্রায় একই সময়ে চললেও কেউ কাউকে অসুবিধায় ফেলেনি।
চিনা রাজনীতিবিদ ওয়াং জানান, তিনি চাইতেন না তাঁর মায়ের মৃত্যু অন্য কারও আনন্দের দিনে বাধা হয়ে দাঁড়াক। তিনি নিজেই ভারতীয় পরিবারটিকে জানিয়ে দেন যে, তাঁর মায়ের মৃত্যু শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছিল এবং চিনা সংস্কৃতি অনুযায়ী, এত দীর্ঘ জীবনকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেই ধরা হয়।
অন্যদিকে ভারতীয় পরিবারও যথেষ্ট সংবেদনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলায়। তারা গানবাজনা বন্ধ করে দেয়, গাড়িগুলি দূরে সরিয়ে দেয় যাতে শবযাত্রার পথে কোনও অসুবিধা না হয়। চিনা পরিবারও জানিয়ে দেয়, সন্ধ্যার পর আর কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হবে না, ফলে বিয়ের আয়োজন নির্বিঘ্নে চলতে পারে।
অনেক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হয়, বিয়ের মতো খুশির অনুষ্ঠান আর মৃত্যুর মতো শোকের অনুষ্ঠান একই জায়গায় পাশাপাশি হওয়া অশুভ। কিন্তু তামপিনে এই দুই পরিবার দেখিয়ে দিল, পারস্পরিক সম্মান আর সহানুভূতির জায়গায় এসব কুসংস্কার কোনও বাধা নয়।