ভিডিওতে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় চলতে থাকা সংঘাত এবং উত্তেজনার কারণে এ বছর তাঁর উৎসবের আনন্দই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তিনি জানান, এত অশান্তির মধ্যে তিনি এ বছর রঙের উৎসব পালন করার মনই পাননি।

শিল্পা চৌধুরী এবং আয়াতোল্লা আলি খামেনেই
শেষ আপডেট: 7 March 2026 08:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের (Iran Israel War) শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-র (Ayatolla Ali Khameni) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভারতে যে বিক্ষোভ (Protest in India) চলছে, তা নিয়ে কড়া সমালোচনা করলেন মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মহিলা (Indian Origin US Army)। তাঁর দাবি, এই ধরনের প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
শিল্পা চৌধুরী (Shilpa Chaudhuri) নামে ওই মহিলা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন এবং তাঁর কাছে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেছেন। ভিডিওটি তিনি হিন্দি ভাষাতেই করেন।
ভিডিওতে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় চলতে থাকা সংঘাত এবং উত্তেজনার কারণে এ বছর তাঁর উৎসবের আনন্দই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তিনি জানান, এত অশান্তির মধ্যে তিনি এ বছর রঙের উৎসব পালন করার মনই পাননি।
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাঁর বক্তব্য কোনওভাবেই মুসলিমবিরোধী নয়। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মধ্যেও মুসলিম রয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে তিনি যে কোনও ধরনের উগ্রপন্থার বিরোধী বলেই উল্লেখ করেন।
ভারতের বিভিন্ন জায়গায় খামেনেইয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে প্রতিবাদ হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গ তুলে শিল্পা বলেন, অনেকেই হয়তো ধর্মীয়ভাবে আঘাত পেয়েছেন, সেটি তিনি বুঝতে পারেন। কিন্তু তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্থানীয় এলাকায় বিক্ষোভ করে বা অশান্তি তৈরি করে শেষ পর্যন্ত কী লাভ হবে।
তাঁর কথায়, এই ধরনের আন্দোলন করে রাজ্য সরকারের কাছে ঠিক কী দাবি জানানো হচ্ছে, সেটাও স্পষ্ট নয়। রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা এই ঘটনায় কোথায়, সেটিও তিনি জানতে চান।
শিল্পার দাবি, ইরানের ভিতরেই অনেক মানুষ খামেনেইয়ের মৃত্যুকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তাঁর মতে, যদি কোনও নেতা সত্যিই জনপ্রিয় হতেন, তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হত না।
ভিডিও বার্তার শেষে তিনি ভারতের মানুষের কাছে অনুরোধ জানান, বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি ভাবতে। তাঁর কথায়, আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখা হয়। সেই সম্মান যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, যে দেশে মানুষ বসবাস করেন, সেই দেশকেই ভালবাসা উচিত। অন্য কোনও দেশের প্রতি অতিরিক্ত আবেগ দেখিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা ঠিক নয়, যাতে অন্যরা বলতে শুরু করেন যে সেই দেশে গিয়ে বাস করা উচিত।
উল্লেখ্য, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যুর খবরও সামনে আসে। এর পর থেকেই আরব দুনিয়ায় উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে। এরপরও দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।