ইজরায়েলের দাবি, লক্ষ্য ছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার নেতৃত্বকেন্দ্রের নীচে তৈরি একটি গোপন বাঙ্কার। যুদ্ধের সময় সেখান থেকেই সামরিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 March 2026 07:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বড়সড় সামরিক হামলা (Iran Israel War) চালিয়েছে ইজরায়েল। শুক্রবার ভোরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে ইজরায়েলের যুদ্ধবিমান (IDF)। ইজরায়েলি বায়ুসেনা জানিয়েছে, প্রায় পঞ্চাশটি যুদ্ধবিমান এই অভিযানে অংশ নেয়। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের (Mossad) নির্ভুল তথ্য এবং গোপন অভিযানের সমন্বয়ে পরিচালিত হয় এই হামলা।
ইজরায়েলের দাবি, লক্ষ্য ছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার (Ayatolla Ali Khamenei) নেতৃত্বকেন্দ্রের নীচে তৈরি একটি গোপন বাঙ্কার (Tehran Bunkers)। যুদ্ধের সময় সেখান থেকেই সামরিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী। বহু বছর ধরে পরিকল্পনা করে এই ভূগর্ভস্থ কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল বলে দাবি তাদের।
তবে ইজরায়েলের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই বাঙ্কার কখনও ব্যবহার করার সুযোগ পাননি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। কারণ এর আগেই আরেক দফা হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। পরে ওই নেতৃত্বকেন্দ্র ইরানের উচ্চপদস্থ শাসক মহলের অন্যান্য সদস্যরা ব্যবহার করছিলেন বলে জানিয়েছে ইজরায়েল।
ইজরায়েলি বায়ুসেনার দাবি, তেহরানের ব্যস্ত এলাকায় বিস্তৃত ওই ভূগর্ভস্থ কাঠামো কয়েকটি রাস্তার নীচে ছড়িয়ে ছিল। সেখানে একাধিক প্রবেশপথ এবং বৈঠক করার জন্য আলাদা কক্ষও তৈরি করা হয়েছিল। ইরানের সামরিক পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ইজরায়েল ও পশ্চিমি বিশ্বের বিরুদ্ধে কঠোর মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ তাদের।
এই হামলার আগে দীর্ঘদিন ধরে তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ চালিয়েছিল ইজরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ। তাদের দাবি, ওই নেতৃত্বকেন্দ্র ধ্বংস হওয়ায় ইরানের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
তিন দশকেরও বেশি সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ক্ষমতায় ছিলেন আলি খামেনেই। তাঁর বয়স হয়েছিল ছিয়াশি বছর। ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ইরান সরকার চল্লিশ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং সাত দিনের জাতীয় ছুটির কথাও জানিয়েছে।
এই হামলার পর আরব দুনিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তেহরান এবং কেরমানশাহ অঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইজরায়েলের দাবি, ইরানের বেশিরভাগ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে।
এর পাল্টা হিসেবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। যদিও সেই হামলায় তৎক্ষণাৎ বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে লেবাননের রাজধানী বেইরুতের দক্ষিণাঞ্চলেও একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। ফলে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের আবহ ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষকরা।