অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও। কিউবান বংশোদ্ভূত এই নেতাকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, কিউবা নিয়ে তিনি দারুণ কাজ করছেন। এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, কিউবা প্রশ্নে মার্কিন প্রশাসনের আগ্রহ এখনও যথেষ্ট প্রবল।
.jpg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 6 March 2026 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের (US Iran Conflict) পর আমেরিকার টার্গেট কিউবা (Cuba)! এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে তাঁর মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার (US-Israel Iran Conflict) পর আমেরিকার নজর কিউবার দিকে ঘুরতে পারে - হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প এমনই মন্তব্য করেছেন। বলেন, প্রথমে ইরান-পরিস্থিতির সামাল দেওয়া প্রয়োজন। তার পর কিউবা নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। তাঁর কথায়, “আমরা আগে এই সমস্যাটা শেষ করতে চাই। তারপর খুব বেশি দেরি হবে না - অনেকেই আবার কিউবায় ফিরে যেতে পারবেন।”
সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio)। কিউবান বংশোদ্ভূত এই নেতাকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, কিউবা নিয়ে তিনি দারুণ কাজ করছেন। এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, কিউবা প্রশ্নে মার্কিন প্রশাসনের আগ্রহ এখনও যথেষ্ট প্রবল।
বর্তমানে কিউবা ইতিমধ্যেই আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের ফলে দেশটির জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে কিউবার জ্বালানি মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
গত জানুয়ারি মাসের ৯ তারিখের পর থেকে দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে আর তেল আমদানি হয়নি বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। জ্বালানির ঘাটতির কারণে বেশ কিছু বিমান সংস্থা কিউবার সঙ্গে তাদের উড়ান কমাতে বাধ্য হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সঙ্কট আরও গভীর হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কিউবার সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, ইরানের পর কিউবাই হয়তো মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী বিদেশনীতি অভিযানের লক্ষ্য হতে পারে। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্যেও কিউবার বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত বহুবার মিলেছে। কিউবার রাজধানী হাভানায় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানোই তাদের লক্ষ্য - এমন মন্তব্যও অতীতে একাধিকবার সামনে এসেছে।
তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে কিউবা নিয়ে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি। তবু আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ইরান যুদ্ধ চলাকালীনই কিউবা প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প কার্যত ভবিষ্যতের একটি সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।