একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দেড় দিনের মধ্যেই ইরান পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এক হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। সেই আক্রমণ প্রতিহত করতে ইজরায়েল, আমেরিকা এবং তাদের বন্ধু দেশগুলিকে একাধিক প্রতিরোধী ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 March 2026 12:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের (US-Israel Iran Conflict) প্রথম ৩৬ ঘণ্টাতেই বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র (US Munitions) ব্যবহার করা হয়েছে। একটি নতুন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিন হাজারেরও বেশি নির্ভুল লক্ষ্যভেদী বোমা ও প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র (USA Munitions) ব্যবহার করা হয়। এই বিপুল ব্যবহারের ফলে অস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দেড় দিনের মধ্যেই ইরান পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় (Middle East Tensions) এক হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। সেই আক্রমণ প্রতিহত করতে ইজরায়েল, আমেরিকা এবং তাদের বন্ধু দেশগুলিকে একাধিক প্রতিরোধী ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়।
এই প্রতিরোধের বেশির ভাগই সফল হলেও তার খরচ বিপুল। প্রতিটি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে উন্নত প্রযুক্তি এবং বিশেষ খনিজ পদার্থ প্রয়োজন হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষ চললে অস্ত্র উৎপাদন এবং সরবরাহ বজায় রাখা পশ্চিমা দেশগুলির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘাতের প্রথম ৩৬ ঘণ্টাতেই আমেরিকা প্রায় ২৫০টি উন্নত বোমা ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি প্রায় ১২০টি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ৬০টি আকাশ থেকে নিক্ষেপকারী ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্তত ১০টি শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিরক্ষার জন্য প্রায় ৯০টি আকাশ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র এবং আরও বহু সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইজরায়েলও ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। প্রায় ৩০০-র কাছাকাছি বোমা, অতিদ্রুতগামী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে তাদের প্রধান ভরসা ছিল স্বল্পপাল্লার প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের এই বিপুল অস্ত্রব্যবহার বিশ্বজুড়ে অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ প্রতিটি উন্নত নির্দেশিত অস্ত্র তৈরির জন্য অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তি ও বিশেষ খনিজ প্রয়োজন হয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, আধুনিক নির্দেশনা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত একাধিক উপাদান বিরল ধাতু থেকে তৈরি। এই ধরনের খনিজের বিশ্ব সরবরাহের বড় অংশই একটি দেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে দ্রুত নতুন অস্ত্র তৈরি করা সব সময় সহজ নয়।
কিছু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নতুন উৎপাদন শুরু করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। আবার কিছু অস্ত্র তৈরি করতে এক থেকে দুই বছর সময়ও লেগে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষ চললে অস্ত্রের মজুত বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার কয়েকটি বন্ধু দেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগেই আমেরিকার শীর্ষ সামরিক কর্তারা সতর্ক করেছিলেন, দীর্ঘ যুদ্ধ চললে অস্ত্রভান্ডারের ওপর চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে যে সব অস্ত্র মিত্র দেশগুলিকে সহায়তা করতে ব্যবহৃত হয়, সেগুলির মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
তবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দেশের অস্ত্রভাণ্ডার এখনও শক্তিশালী রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করা সম্ভব। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলিতেও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।