শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী ওই জাহাজ থেকে বিপদ সঙ্কেত পায়। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। প্রথমে শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে হামলার খবর অস্বীকার করা হলেও পরে তা নিশ্চিত করা হয়। এখনও কয়েক জন নাবিকের খোঁজ মেলেনি বলে জানা গেছে।

মার্কিন হামলায় ধ্বংস ইরানি জাহাজ
শেষ আপডেট: 6 March 2026 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েকদিন আগেই ভারতের সমুদ্রতটে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছিলেন তাঁরা। কেউ সমুদ্রের ঢেউকে পেছনে রেখে সেলফি তুলেছেন, কেউ আবার মোবাইলে বন্দি করেছেন বিশাখাপত্তনমের সমুদ্রসৈকতের দৃশ্য। তখনও কেউ জানতেন না, কয়েক দিনের মধ্যেই ভয়াবহ ঘটনার (US Submarine Strike On Irani Warship) সম্মুখিন হতে হবে তাঁদের। শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে হামলায় (US Strike At Sri Lanka Coast) ডুবে যাবে তাঁদের যুদ্ধজাহাজ, আর প্রাণ হারাবেন বহু নাবিক।
শনিবার এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের নৌবাহিনীর (Iran Navy) জাহাজ আইরিস ডেনার (Iris Dena Warship) ৮৭ জন নাবিকের। একটি মার্কিন সাবমেরিনের আঘাতে জাহাজটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে। সেই হামলার পর থেকেই বহু নাবিক নিখোঁজ ছিলেন। পরে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
ইরানের এই যুদ্ধজাহাজটি ফেব্রুয়ারির ১৮ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়ায় (International Naval Exercise) অংশ নিয়েছিল। ভারতের উদ্যোগে আয়োজিত এই মহড়ায় বহু দেশের নৌবাহিনী অংশ নেয়। মহড়া শেষ করে জাহাজটি নিজ দেশে ফিরছিল বলে জানা গেছে।
শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী ওই জাহাজ থেকে বিপদ সঙ্কেত পায়। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। প্রথমে শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে হামলার খবর অস্বীকার করা হলেও পরে তা নিশ্চিত করা হয়। এখনও কয়েক জন নাবিকের খোঁজ মেলেনি বলে জানা গেছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এই আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়ার উদ্বোধন করেছিলেন। বিভিন্ন বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের নৌবাহিনীর পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি ও আমেরিকার সামুদ্রিক টহল বিমানও এই মহড়ায় অংশ নেয়।
মহড়া শুরুর কয়েক দিন আগে ইরানের নাবিকরা বিশাখাপত্তনম শহরে নামেন। সেখানে কয়েকদিন কাটিয়ে তাঁরা স্থানীয় বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। কেউ যান সমুদ্রের ধারের কৈলাসগিরি পাহাড়ে, কেউ আবার শহরের যুদ্ধস্মারক ও সাবমেরিন জাদুঘর পরিদর্শন করেন।
ভারতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানও ঘুরে দেখেন বিদেশি নৌ-কর্তারা। তাঁদের মধ্যে অনেকে আগ্রার তাজমহল এবং বোধগয়ার মহাবোধি মন্দিরেও যান। ভারতীয় নৌবাহিনীর তরফে জানানো হয়, ওই সব ঐতিহাসিক স্থানের সৌন্দর্য এবং ধর্মীয় গুরুত্ব তাঁদের গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল।
বিশাখাপত্তনমের সমুদ্রতটে আয়োজিত কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছিলেন বিভিন্ন দেশের নাবিকরা। সেই অনুষ্ঠান দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছিলেন। স্থানীয় এক হোটেল মালিক জানান, তিনি ইরানের নাবিকদের সমুদ্রের ধারে ছবি তুলতে দেখেছিলেন। তখনও কেউ কল্পনাও করতে পারেননি যে এত অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের এমন করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে।
ঘটনার পর ভারতীয় নৌবাহিনী জানায়, শ্রীলঙ্কার উপকূলের গলের পশ্চিমে প্রায় কুড়ি নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি বিপদ সঙ্কেত পাঠিয়েছিল। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় নৌবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। দীর্ঘপাল্লার সমুদ্র টহল বিমান পাঠানো হয় এবং উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য একটি নৌযানও ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।
নিখোঁজ নাবিকদের খোঁজে এখনও অনুসন্ধান অভিযান চালানো হচ্ছে। মানবিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনীও সেই প্রচেষ্টায় সহায়তা করে চলেছে।