আক্রান্তের দাবি, তাঁর গালের হাড় ভেঙে গেছে। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁকে এখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার প্রয়োজন।

আক্রান্ত ভারতীয় যুবক - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 31 July 2025 13:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আয়ারল্যান্ডের (Ireland) রাজধানী ডাবলিনে (Dublin) প্রকাশ্য রাস্তায় এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবকের (India Orgin Man) উপর হামলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার বিবরণ দিয়ে আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
আক্রান্তের নাম সন্তোষ যাদব। পেশায় তিনি প্রযুক্তি সংস্থার কর্মী। লিঙ্কডইনে (LinkedIn) একটি দীর্ঘ পোস্টে সন্তোষ জানিয়েছেন, “রাতের খাবার খেয়ে অ্যাপার্টমেন্টের কাছে হাঁটছিলাম। তখন ছ’জন কিশোর হঠাৎ পেছন থেকে আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চশমা ছিনিয়ে নেয়, ভেঙে ফেলে, তারপর আমাকে বেধড়ক মারধর করে। মুখ, মাথা, ঘাড়, বুক, হাত-পায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। শেষ পর্যন্ত আমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফুটপাথে ফেলে রেখে পালায়।”
আক্রান্তের দাবি, তাঁর গালের হাড় ভেঙে গেছে। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁকে এখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার প্রয়োজন। সন্তোষের অভিযোগ, আয়ারল্যান্ডে ভারতীয়দের উপর হিংসাত্মক হামলার ঘটনা বাড়ছে। কিন্তু পুলিশ বা প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং হামলাকারীরা খোলা মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে, নতুন হামলার সাহস পাচ্ছে।
ঘটনার পরে তিনি আয়ারল্যান্ড সরকার, ডাবলিনে ভারতীয় দূতাবাস, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এবং আয়ারল্যান্ডে ভারতের রাষ্ট্রদূত অখিলেশ মিশ্র-সহ একাধিক দপ্তরকে ট্যাগ করে পোস্ট করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই পোস্ট ঘিরে ক্ষোভ ছড়ায়। বহু মানুষ এই ঘটনার নিন্দা করে একাধিক মন্তব্য করেছেন।
এই ঘটনার কিছু দিন আগেই ডাবলিনে আর এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিককে রাস্তায় ফেলে মারধরের ঘটনা সামনে এসেছিল। অভিযোগ, একদল তরুণ তাঁকে মারধর করে নগ্ন অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। যদিও সেই ঘটনায় আক্রমণকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি এলাকার শিশুদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছিলেন। তবে পুলিশ সেই দাবি মানেনি। বরং তারা প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে, এই আক্রমণের পেছনে বর্ণবিদ্বেষের সম্ভাবনাই বেশি।
ক্রমশ এই ধরনের হামলা বাড়ায় আয়ারল্যান্ডে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছেন প্রবাসীরা।