প্রথমে এক কিশোর তাঁর পকেটে তল্লাশি শুরু করে, এরপর আরেকজন এসে তাঁকে ঘুষি মারতে থাকে বলে অভিযোগ। যতক্ষণ না তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ততক্ষণ মারধর চলে। এরপর এক কিশোর মচ্ছেটি (লম্বা কাস্তের মতো দেখতে ধারালো অস্ত্র) বের করে সৌরভের গলায় ধরে।

সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 27 July 2025 10:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ভয়াবহ হামলার শিকার হলেন এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক। ঘটনার সময় তিনি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। হামলার ধাক্কায় প্রায় কেটে গিয়েছিল তাঁর একটি হাত। পরে হাসপাতালে তাঁর সেই হাত জোড়া লাগানো সম্ভব হয়। গুরুতর জখম যুবকের নাম সৌরভ আনন্দ (৩৩)।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ১৯ জুলাইয়ের। সাড়ে সাতটা নাগাদ, মেলবোর্নের আল্টোনা মিডোস এলাকার সেন্ট্রাল স্কয়্যার শপিং সেন্টারের কাছে পাঁচ কিশোর আক্রমণ চালায় ওই যুবকের ওপর। সেসময় ফোনে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে বলতে ফার্মেসি থেকে ফিরছিলেন সৌরভ। হঠাৎই তাঁকে ঘিরে ধরে পাঁচ জন।
প্রথমে এক কিশোর তাঁর পকেটে তল্লাশি শুরু করে, এরপর আরেকজন এসে তাঁকে ঘুষি মারতে থাকে বলে অভিযোগ। যতক্ষণ না তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ততক্ষণ মারধর চলে। এরপর এক কিশোর মচ্ছেটি (লম্বা কাস্তের মতো দেখতে ধারালো অস্ত্র) বের করে সৌরভের গলায় ধরে। আতঙ্কে আত্মরক্ষার জন্য তিনি হাত তুলতেই সেই মচ্ছেটি তাঁর কবজির মধ্যে দিয়ে চলে যায়। এনিয়ে সৌরভ বলেন, 'প্রথম কোপটা কবজিতে, দ্বিতীয়টা হাতের ভিতর দিয়ে, তৃতীয় কোপটা হাতের হাড় ভেদ করে চলে যায়।'
হামলাকারীরা কেবল তাঁর হাতই নয়, কাঁধ, পিঠেও কোপ মারে। যার ফলে তাঁর মেরুদণ্ডে চোট লাগে এবং একাধিক হাড় ভেঙে যায়। সৌরভ জানান, তিনি শুধু যন্ত্রণা অনুভব করছিলেন, জ্ঞান হওয়া অবস্থা দেখেন, তাঁর হাতটা একটুকরো চামড়ার জোড়ে ঝুলছে।
তবে সৌরভ সাহস হারাননি। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে বেরিয়ে এসে সাহায্য চান। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে চিকিৎসকেরা হাত কেটে ফেলতে বললেও পরে দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর হাত আবার জোড়া লাগানো সম্ভব হয়।
পাঁচ অভিযুক্ত কিশোরের মধ্যে চারজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে, আরও এক ভারতীয়, চরণপ্রীত সিং নামে এক ছাত্র, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরের কিন্টোর অ্যাভিনিউয়ের কাছে গাড়ি পার্কিং ঘিরে বিবাদের জেরে একদল দুষ্কৃতীর হাতে আক্রান্ত হন। অভিযোগ, তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় ও বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হয়।
প্রবাসী ভারতীয়দের উপর এই ধরনের হামলা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে দেশের অন্দরে। এখন দেখার, এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে।