মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'ইরান তার তেল রপ্তানির আয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি ছড়ানোর মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই রাজস্বপ্রবাহ রোধে আমেরিকা তার নিষেধাজ্ঞার নীতি কঠোর করছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে যারা তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করছে, তাদের আমরা ছাড় দেব না।'

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 31 July 2025 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির দায়ে এবার কড়া পদক্ষেপ আমেরিকার। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখার অভিযোগে ২০টি সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬টি ভারতীয় কোম্পানি। এই সিদ্ধান্তে স্বভাবতই কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়ল দিল্লি।
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ইরান তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রফতানি করে সেই অর্থ খরচ করছে মধ্য প্রাচ্যে অস্থিরতা তৈরিতে এবং সন্ত্রাসবাদে মদত দিতে। ওয়াশিংটনের মতে, এই ধরনের বাণিজ্য কার্যত ইরানের যুদ্ধনীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাই আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তেহরানের সঙ্গে লেনদেন করায় একগুচ্ছ বিদেশি সংস্থাকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ‘স্যাংশনড এনটিটিজ়’-এর তালিকায়।
কোন কোন ভারতীয় সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা?
মার্কিন বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভারতের যে ৬টি সংস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে:
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অ্যালকেমিস্ট সলিউশন প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, এই সংস্থাটি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ইরানের একাধিক কোম্পানির কাছ থেকে প্রায় ৮৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানি করেছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যালস লিমিটেড কিনেছে ৫১ মিলিয়ন ডলারের সামগ্রী।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'ইরান তার তেল রপ্তানির আয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি ছড়ানোর মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই রাজস্বপ্রবাহ রোধে আমেরিকা তার নিষেধাজ্ঞার নীতি কঠোর করছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে যারা তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করছে, তাদের আমরা ছাড় দেব না।'
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন, আমদানি-রফতানি এবং মার্কিন সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগে বড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই সময়ে ইরানের উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা। সেই প্রেক্ষিতেই ভারতীয় কোম্পানিগুলোর উপর এই সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
একদিকে আমেরিকার সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ, অন্যদিকে শক্তিশালী জ্বালানি সাপ্লায়ারের তালিকায় থাকা ইরান, এই পরিস্থিতিতে দিল্লির সামনে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে, পরবর্তী পদক্ষেপে কী বার্তা দেয় কেন্দ্র, সেদিকে এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।