এই পরিস্থিতিতে ভারত কীভাবে মোকাবিলা করে, সেই দিকেই এখন নজর কূটনৈতিক মহলের।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 30 July 2025 23:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কেন? অবশেষে সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump on Tariff)। তাঁর দাবি, ভারতের উচ্চ শুল্কনীতি এবং ‘অসহ্য ও অবাঞ্ছিত’ অ-আর্থিক (non-monetary) বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পথ কঠিন করে তুলেছে। সেইসঙ্গে রাশিয়ার (Russia) সঙ্গে ভারতের (India) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও, আমরা বছরের পর বছর খুবই সামান্য ব্যবসা করেছি। কারণ, ভারত বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপকারী দেশ। সেই সঙ্গে রয়েছে অসহনীয় অ-আর্থিক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা।”
Truth Social-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ভারত এখনও রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এবং সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করে চলেছে—যা রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। “সবই খারাপ দিক—এই কারণেই ১ অগস্ট থেকে ভারতের উপরে ২৫ শতাংশ শুল্ক এবং অতিরিক্ত জরিমানা কার্যকর করা হবে,” বলেন তিনি।
এক পৃথক পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “আমাদের ভারতের সঙ্গে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে!”
এছাড়াও এপ্রিল মাসেও ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের উপরে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয় এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
জানা গিয়েছে, আগস্ট মাসে আমেরিকার একটি প্রতিনিধি দল ভারতে আসছে ওই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পরবর্তী দফার আলোচনায় অংশ নিতে। গত সপ্তাহেই ওয়াশিংটনে পঞ্চম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ আগরওয়াল এবং আমেরিকার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ব্রেন্ডান লিঞ্চ।
এদিকে, ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে ও মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালানো দেশগুলির বিরুদ্ধে ১০০% শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তাঁদের নিশানাতেও ছিল ভারত, চিন ও ব্রাজিল।
এর আগে ‘লিবারেশন ডে’ ঘোষণায় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, বিশ্বের একাধিক দেশের উপর পাল্টা শুল্ক বসাবে তাঁর প্রশাসন। তখন ভারতের উপর ২৬ শতাংশ শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব ছিল, যদিও পরে ৯০ দিনের জন্য ছাড় দেওয়া হয়। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ অগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে শুল্ক কার্যকর।
এই পরিস্থিতিতে ভারত কীভাবে কূটনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করে, সেই দিকেই এখন নজর কূটনৈতিক মহলের। সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।