ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড়সড় ধাক্কা লেগে গেল। বুধবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ভারতের উপরে একতরফা ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপাবে ওয়াশিংটন।

শেষ আপডেট: 31 July 2025 12:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কে (Trump's Tariff on India) বড়সড় ধাক্কা লেগে গেল। বুধবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ঘোষণা করেছেন, ভারতের উপরে একতরফা ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপাবে ওয়াশিংটন। ১ অগস্ট থেকে তা কার্যকর হবে। এই শুল্কের বোঝার সঙ্গে থাকছে এক অনির্দিষ্ট "পেনাল্টি"—রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার খেসারত দিতে হবে নয়াদিল্লিকে। ফলে শুধু রফতানি নয়, কূটনৈতিক সম্পর্কেও অস্বস্তি বাড়ল ভারতের (Trump's Tariff on India)।
রফতানি ও অর্থনীতিতে ধসের সম্ভাবনা
২০২৪ সালে ভারত আমেরিকায় ৮৭.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছিল, যা দেশের মোট রফতানির ১৭ শতাংশ ও জিডিপি-র ২.২ শতাংশ। এবার সেই বাজারে দামের ভারে কোণঠাসা হতে পারে ভারতীয় পণ্য (Trade war between India and America)—বিশেষত যেগুলি শ্রমনির্ভর—যেমন বস্ত্রশিল্প, ওষুধ, রত্ন ও অলঙ্কার, ইলেকট্রনিক্স ও গাড়ির যন্ত্রাংশ।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই শুল্ক দীর্ঘদিন কার্যকর থাকে, তবে ভারতের জিডিপি ০.২ থেকে ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট কমে যেতে পারে। ছোট ও মাঝারি রফতানিকারীরা সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খাবেন। ইতিমধ্যেই শেয়ার বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে—সেনসেক্স প্রায় ৬০০ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছে, নিফটি কমেছে ০.৭ শতাংশ।
এই শুল্কের নেপথ্যে শুধুই বাণিজ্য নয়—রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও বড় কারণ। কম দামে রাশিয়ান তেল ও চলতি অস্ত্রচুক্তি নিয়ে আমেরিকা আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। এবার তা সরাসরি শুল্ক নীতিতে প্রতিফলিত হল।
ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ সাফ জানিয়েছেন, “আমার কিছু যায় আসে না ভারত রাশিয়ার সঙ্গে কী করছে। ওরা চাইলে নিজেদের মৃত অর্থনীতি একসঙ্গে ডুবিয়ে দিক।”
শেয়ার বাজারে প্রভাব (Trump's Tariff Effect on Share Market)
বস্ত্র, ওষুধ, গাড়ি—এই তিনটি সেক্টরেই বিনিয়োগকারীরা আপাতত সাবধানী। চয়েস ইনস্টিটিউশনাল ইকুইটির গবেষণা প্রধান উৎসব বর্মা জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে লগ্নিকারীরা ঘরোয়া চাহিদাভিত্তিক স্টক ও স্ট্রাকচারাল রিফর্মের দিকে ঝুঁকবেন।”
‘ট্রাম্পীয় কৌশল’ নাকি দরকষাকষির অস্ত্র?
কিছু বিশ্লেষকের মতে, এটি ট্রাম্পের পরিচিত কৌশল—উচ্চ শুল্ক ঘোষণা করে পরে দরদাম করে তুলনা মূল্যে কম শুল্কে সমঝোতা করা। জিওজিট ফিনান্সিয়ালের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ ডঃ ভি কে বিজয়কুমার বলেছেন, “শেষ পর্যন্ত হয়তো এই শুল্ক ১৫-২০ শতাংশে নেমে আসবে।”
তবে ভারত এখনই পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করেনি বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ( WTO) কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায়নি। তবে সরকারের অন্দরমহলে আলোচনার গতি বেড়েছে বলে সূত্রের খবর। এ বছরের শেষ দিকে G20 বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে এই ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রফতানিকারীদের একাংশ ইতিমধ্যেই বিকল্প পথ খুঁজছে—তৃতীয় দেশের মাধ্যমে রফতানি বা ইউরোপ-ইউকের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দিকে ঝোঁক বাড়ছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই নতুন শুল্ক নীতি ভারতের অর্থনীতি, রফতানি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—তিনটি স্তরেই চাপে ফেলেছে। আপাতত বাজারে ধাক্কা লাগলেও, বিশেষজ্ঞদের আশা, আলোচনার মাধ্যমে কোনও সমঝোতা সম্ভব। তবে তার আগ পর্যন্ত অনিশ্চয়তার কুয়াশা ঘিরে থাকবে অর্থনীতিকে।