মার্কিন এক পুলিশ অফিসার ওইভাবে মেরেই ফেলেছিলেন জর্জ ফ্লয়েড নামক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে। তারপরই শুরু হয়েছিল 'ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার' আন্দোলন।

জর্জ ফ্লয়েডের স্মৃতি ফেরাল গৌরব কুন্ডির ঘটনা
শেষ আপডেট: 3 June 2025 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাটিতে পড়ে রয়েছেন যুবক। তাঁর গলার ওপর পা চেপে রেখেছে পুলিশ। ২০২০ সালে এমন এক ঘটনা তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল গোটা বিশ্বে। মার্কিন এক পুলিশ অফিসার ওইভাবে মেরেই ফেলেছিলেন জর্জ ফ্লয়েড (George Floyd) নামক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে। তারপরই শুরু হয়েছিল 'ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার' (Black Lives Matter) আন্দোলন। সেই ঘটনার ছায়া ২০২৫ সালে এসে পড়ল অস্ট্রেলিয়াতে (Australia)। এবার একই ঘটনার স্বীকার হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত (Indian Origin) এক যুবক। যদিও তাঁর মৃত্যু ঘটেনি, তিনি কোমায় আছেন।
অমৃতপাল কৌর নামের এক তরুণীর অভিযোগ, তাঁর স্বামী গৌরব কুন্ডির ওপর পুলিশ অত্যাচার করেছে। আর সেই কারণেই বর্তমানে তিনি কোমায় চলে গেছেন। ঠিক কী ঘটেছে? অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, অ্যাডিলেডের রাস্তায় কথা কাটাকাটি চলছিল গৌরব এবং তাঁর স্ত্রীর। সেই সময়ই পুলিশ টহল দিচ্ছিল সেখানে। তাঁরা মনে করেছিল, গৌরব স্ত্রীকে মারধর করেছেন, তাঁদের মধ্যে অশান্তি হচ্ছে। তখনই তাঁরা গৌরবকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করেন।
অমৃতপালের কথায়, তাঁরা বারবার পুলিশকে বলছিলেন যে এটা কোনও গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনা নয়। যা হয়েছে তাঁরা নিজেদের মধ্যে বুঝে নেবেন। কিন্তু পুলিশ তাঁর কথায় পাত্তাই দিতে চায়নি। বরং গৌরবকে মেরে রাস্তায় শোওয়ানো হয় এবং তাঁর গলায় পা চেপে রাখা হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, গৌরব নিজেকে বাঁচানোর জন্য প্রতিরোধ করেছিলেন। সেই সময় পুলিশ জোর করলে তাঁর মাথা গিয়ে লাগে গাড়িতে। তারপর তিনি লুটিয়ে পড়েন।
গৌরবের স্ত্রীর স্পষ্ট অভিযোগ, গ্রেফতারের আগে রাস্তায় তাঁর স্বামীর গলা হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেন এক পুলিশ অফিসার। তিনি বারবার ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলেও পুলিশ শোনেনি। এদিকে গৌরবও চাপা গলায় চিৎকার করতে থাকেন, 'আমি কিছু করিনি, আমি নির্দোষ।' কিন্তু পুলিশ না ছাড়ায় আস্তে আস্তে ঝিমিয়ে পড়েন তিনি। গোটা ঘটনার ভিডিও রয়েছে তাঁর কাছে এমনটাও জানিয়েছেন অমৃতপাল। তবে গাড়িতে গৌরবের মাথা ঠুকে দেওয়ার ভিডিও তিনি করতে পারেননি বলে জানান।
গৌরব পুরোপুরি নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, গৌরবের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি কোমায় চলে গেছেন। মনে করা হচ্ছে, গলায় চাপ থাকাকালীন তিনি আপ্রাণ চিৎকার করার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময়ই তাঁর মাথায় চাপ পড়ে প্রবলভাবে। তাতেই এই ঘটনা ঘটেছে। অক্সিজেনের অভাবে এমনটা হয়েছে বলে ধারণা তাঁদের।
স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা আমেরিকার জর্জ ফ্লয়েডের খুনের ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ী পুলিশ বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে।