গত ৩০ জুলাই, ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ভারতের উপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হবে। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার থেকে অস্ত্র ও তেল কেনার জন্য ভবিষ্যতে আরও বড় আর্থিক নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত দেন।

পুতিন-মোদী-স্টিফেন মিলার
শেষ আপডেট: 4 August 2025 07:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলার। তাঁর বক্তব্য, 'মস্কোর কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে ভারত আসলে ইউক্রেনের যুদ্ধকে অর্থ সাহায্য করছে।'
রবিবার ফক্স নিউজ চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিলার বলেন, “ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই তেল কেনার অর্থই হচ্ছে রাশিয়ার যুদ্ধনীতিকে আর্থিকভাবে চাঙ্গা করা।”
প্রাক্তন ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ তথা ট্রাম্পের একাধিক নীতির স্থপতি মিলার আরও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “চিন এবং ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিমাণ প্রায় একই। এটা শুনে অনেকেই ধাক্কা খাবেন। এমন পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য।”
আমেরিকার পক্ষ থেকে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি হলেও, নয়াদিল্লি এখনও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। প্রশাসন সূত্রে এক সংবাদ সংস্থাকে জানানো হয়েছে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যাবে।
তবে ট্রাম্প শিবিরের কড়া বার্তার মাঝেও মিলার বলেন, “ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্ক দারুণ।” তিনি জানান, মোদীকে ট্রাম্প যথেষ্ট সম্মান করেন, তবে রাশিয়ার সঙ্গে তেল ও অস্ত্র কেনাবেচা নিয়ে তাঁর কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।
গত ৩০ জুলাই, ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ভারতের উপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হবে। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার থেকে অস্ত্র ও তেল কেনার জন্য ভবিষ্যতে আরও বড় আর্থিক নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত দেন। তাঁর কথায়, “ভারত ও রাশিয়া, উভয়ের অর্থনীতিই মৃতপ্রায়। কী করছে ভারত, তাতে আমার কিছু এসে যায় না।”
একইসঙ্গে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ না করে, তবে যে কোনও দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনবে, তাদের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক চাপানো হতে পারে।
এদিকে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও-ও ভারতের তেল নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, “ভারত আমাদের কৌশলগত বন্ধু হলেও, রাশিয়া থেকে ক্রমাগত তেল কেনা আমাদের সম্পর্কের একটা বড় ‘পয়েন্ট অফ ইরিটেশন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
কতটা বেড়েছে তেল আমদানি?
সংবাদ সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ২০২১ সালে ভারতের মোট তেল আমদানির মাত্র ৩ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে। সেই সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ।
এই প্রবণতা যে আমেরিকার কাছে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে, তা ট্রাম্প ও তাঁর শিবিরের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট। মোদী সরকারের আন্তর্জাতিক কৌশল ও জ্বালানী নির্ভরতার প্রশ্নে আগামিদিনে এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।