এই প্রথমবার, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর, আমেরিকা সরাসরি ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালাল।
.jpeg.webp)
ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 22 June 2025 16:13
দ্য ওয়াল প্রতিবেদন: তিনটি পারমাণু ঘাঁটিতে আমেরিকার এয়ারস্ট্রাইকের (Air Strike) পর এখন সারা বিশ্বের চোখ তেহরানের (Tehran) দিকে। কীভাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেবে ইরান (Iran)? দৃঢ় জবাব দিলে যুদ্ধ (Iran Israel Conflict) আরও বাড়বে। আবার নমনীয় হলে দেশের অভ্যন্তরে জনপ্রিয়তা হারাতে পারে শাসক গোষ্ঠী। তৃতীয় একটা সম্ভাবনাও রয়েছে—এই মুহূর্তে আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনও প্রত্যক্ষ জবাব নাও দিতে পারে ইরান।
এই প্রথমবার, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর, আমেরিকা সরাসরি ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালাল। লক্ষ্য—ফোরডো, নাটানজ এবং এসফাহান। কিন্তু এই হামলার ‘প্রেসিশন নেচার’ থেকেই স্পষ্ট, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যত বল ছুড়ে দিয়েছেন ইরানের কোর্টে।
তিনি স্পষ্ট বলেন, "পশ্চিম এশিয়ার দস্যু ইরান এখন শান্তি চাইলে ভাল, না হলে আরও বড় এবং সহজ আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকুক।"
মূলত, আমেরিকা একপ্রকার কৌশলগতভাবে ইরানকে উত্তেজনায় পা ফেলার সুযোগ দিয়েছে। যদি ইরান পাল্টা হামলা করে, তবে আমেরিকা যুদ্ধকে আরও উসকে দিয়ে বলতে পারবে—"আমরা শুরু করিনি"।
ইরানের বিদেশমন্ত্রক আমেরিকার এই হামলাকে "জাতিসংঘ সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন" বলে আখ্যা দিয়েছে, যা "ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার উপর বর্বর হামলা"।
তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, "আমরা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ চাই। এবং আমেরিকার অপরাধমূলক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সব রকম শক্তি দিয়ে দেশের নিরাপত্তা ও মানুষকে রক্ষা করব।"
তবে এই মুহূর্তে সরাসরি আমেরিকার উপর হামলা চালানো ইরানের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, সামরিক দিক থেকে অসম এই সংঘর্ষ ট্রাম্পকে আবারও বড় আক্রমণের সুযোগ করে দেবে।
এই পরিস্থিতিতে তেহরান হয়তো কৌশলগতভাবে আমেরিকার উপর সরাসরি প্রতিশোধ না নিয়ে ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়ে যেতে পারে। এর ফলে আমেরিকা যুদ্ধের বাইরে থাকতে বাধ্য হবে, আবার ইজরায়েলের উপর চাপ বাড়বে।
এই যুদ্ধ শুরু করে নিজেই বিপাকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এতদিন বিদেশের ‘চিরন্তন যুদ্ধ’-র বিরুদ্ধে কথা বলে আসা ট্রাম্প এখন সেই যুদ্ধেই জড়িয়ে পড়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা তাঁকে পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণে ব্যস্ত। এমনকী রিপাবলিকানদের একটা অংশও বিচলিত।
যদি ইরান মাথা নোয়ায়, তাহলে এই যুদ্ধকে ট্রাম্প একটা ‘জয়’ হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। কিন্তু যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে তাঁকে দায় নিতে হবে এক নতুন যুদ্ধ জড়িয়ে ফেলার জন্য। বিশেষ করে, এমন সময়ে যখন পাকিস্তান তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে, এই যুদ্ধ তাঁর ‘শান্তির দূত’ ভাবমূর্তিতে আঘাত করতে পারে।
তবে এই মুহূর্তটা ইরানের পক্ষে একটা নতুন রাস্তা খুলে দিয়েছে। আগে ইরান পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি (NPT) থেকে বেরিয়ে আসার কথা ভাবছিল। এখন তারা দাবি করতে পারে—যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাদের ইউরেনিয়ামের ভাগ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলা সম্ভব নয়।
এই কৌশল তিনটি সুবিধা দিতে পারে: