২০১৬ সালে শংকর গ্রুপের হাত ধরে শুরু হয়েছিল নেপালের আকাশছোঁয়া হোটেল হিলটনের কাজ। লক্ষ্য ছিল, দেশের আতিথেয়তা শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দেওয়া।

হিলটন কাঠমাণ্ডু: আগে ও পরে
শেষ আপডেট: 11 September 2025 16:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি সপ্তাহে কাঠমাণ্ডু (Nepal Clash) আকাশরেখা ঢেকে গিয়েছিল কালো ধোঁয়ায়। নেপালের সবচেয়ে উঁচু হোটেল (Highest Hotel) হিলটন কাঠমাণ্ডু (Nepal Hilton Kathmandu) কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিণত হয় ছাইয়ের খোলসে। 'জেন জি' আন্দোলনে (Gen Z Protest) সে দেশের বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে বহু বছরের শ্রম আর হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ।
২০১৬ সালে শংকর গ্রুপের হাত ধরে শুরু হয়েছিল নেপালের আকাশছোঁয়া হোটেল হিলটনের কাজ। লক্ষ্য ছিল, দেশের আতিথেয়তা শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দেওয়া। নানা বাধা, বিশেষ করে কোভিড মহামারির ধাক্কায় থমকে গিয়েছিল নির্মাণ। অবশেষে প্রায় সাত বছরের চেষ্টার পর, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে দরজা খুলেছিল হোটেলটি।
৬৪ মিটার উঁচু এই ভবন দ্রুতই পেয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ হোটেলের তকমা। কারুকার্যেও ছিল এর অভিনবত্ব। ভবনের কাচের শেডে ফুটে উঠেছিল বৌদ্ধ প্রার্থনা পতাকার অনুপ্রেরণা। দিন-রাতের আলোয় পালটে যেত রং, ঝলমল করত আকাশরেখায়।
হিলটন তৈরি হয়েছিল কাঠমান্ডুর নাক্সাল এলাকায়। একদিকে শহরের কোলাহল, অন্যদিকে লাংটাং পর্বতমালা, হোটেলের নকশা এই দুই বৈপরীত্যকেই মিলিয়েছিল এক সুতোয়। ১৭৬টি ঘর, পাঁচটি রেস্তরাঁ, ইনফিনিটি পুল, স্পা, জিম, আন্তর্জাতিক মানের কনফারেন্স হল, সব মিলিয়ে নেপালের পর্যটনে নতুন অধ্যায় লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিল হিলটন।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল এর রুফটপ বার ওরিয়ন, যেখানে কাঠের খোদাই আর মণ্ডলাকৃত শিল্পের মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠত নেপালি ঐতিহ্য। অতিথিরা সেখান থেকে দেখতে পেতেন হিমালয়ের আকাশছোঁয়া দৃশ্য।
নেপালের ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখে হোটেলটির কাঠামোয় যুক্ত করা হয়েছিল বিশেষ শিয়ার ওয়াল ও ড্যাম্পিং সিস্টেম। বড় বিপর্যয়েও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য থাকার মতোই নকশা ছিল হিলটনের।
আজ সেই সব স্বপ্ন ধূলোয় মিশে গেছে। আগুনে পুড়ে গিয়েছে কাচের রঙিন ফিন, উড়ে গেছে জানলার কাচ। হোটেলের অভ্যন্তর সম্পূর্ণ ছাই হয়ে পড়ে আছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার রাগ ও ক্ষোভ ভস্ম করে দিয়েছে বছরের পর বছরের শ্রম, বিনিয়োগ আর কল্পনার ফসল।
সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকেই যে বিক্ষোভ শুরু, তা দ্রুত রূপ নেয় দুর্নীতি আর রাজনৈতিক কীর্তিকলাপের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করলেও ক্ষোভ থামেনি। এখনও পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে প্রায় ২০ জনের, আহতের সংখ্যাও অগুণতি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় কাঠমান্ডুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও।
হিলটন কাঠমাণ্ডু ধ্বংস তাই শুধু একটি হোটেলের ক্ষতি নয়, বরং নেপালের অস্থিরতার প্রতীক হয়ে যেন ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে আশা ও অগ্রগতির স্বপ্ন, অন্যদিকে হতাশা আর ক্ষোভের বাস্তবতা, সেই দ্বন্দ্বের আগুনেই আজ ভস্মীভূত নেপালের সবচেয়ে উঁচু হোটেল।