৫৪ বছরের কুলমান ঘিসিং দেশের দীর্ঘ দিনের ‘লোডশেডিং’ বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট সংকট মেটানোর জন্য সর্বাধিক পরিচিত। একসময় প্রতিদিন প্রায় ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতায় ভুগত নেপাল।
.jpeg.webp)
সুশীলা কার্কি ও কুলমান ঘিসিং
শেষ আপডেট: 11 September 2025 15:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘জেন জি’ (Gen Z) আন্দোলনকারীদের (Nepal Protest) অন্দরেই মতভেদ। বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের (Nepal Clash) একাংশ প্রাক্তন নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের প্রধান কুলমান ঘিসিংকে (Kulman Ghising) অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে বসানোর প্রস্তাব দিলেন। তাঁদের দাবি, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে (Sushila Karki) এই পদে বসানো হলে সর্বসম্মত মত গঠন কঠিন হবে।
এর আগে হাজার হাজার তরুণ সমর্থক সুশীলা কার্কিকেই অন্তর্বর্তী প্রধানের আসনে দেখতে চাইছিলেন। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিদের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা রয়েছে। অন্যদিকে, আরেক জনপ্রিয় মুখ বলেন্দ্র শাহ (Bolendra Sah) আগেই আগ্রহী নন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
প্রতিবাদী গোষ্ঠীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যেহেতু বলেন্দ্র শাহ আগ্রহ দেখাননি, ধর্মান মেয়র হার্ক সাম্পাং সবার সমর্থন টানতে পারছেন না, আর সুশীলা কার্কি অযোগ্য ও সত্তরোর্ধ্ব— তাই দেশপ্রেমিক এবং সর্বজনপ্রিয় প্রকৌশলী কুলমান ঘিসিংকেই অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
৫৪ বছরের কুলমান ঘিসিং দেশের দীর্ঘ দিনের ‘লোডশেডিং’ বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট সংকট মেটানোর জন্য সর্বাধিক পরিচিত। একসময় প্রতিদিন প্রায় ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতায় ভুগত নেপাল। ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে পূর্ণ বৃত্তিতে বৈদ্যুতিক প্রকৌশল পড়াশোনা করেছিলেন তিনি।
সোমবার থেকে জেন জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে উত্তাল নেপাল। সরকারি দমননীতির ফলে আন্দোলন রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি।
প্রথমে সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ ছড়ালেও পরে তা রূপ নেয় দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং কর্মসংস্থানের অভাবের বিরুদ্ধে সর্বজনীন আন্দোলনে। ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স-সহ ২৬টি সামাজিক মাধ্যম স্থানীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে নিবন্ধিত না হওয়ায় সরকার তা বন্ধ করে দেয়। যাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর হামলা হিসেবেই দেখছেন সাধারণ মানুষ।
রাজধানী কাঠমান্ডু-সহ বিভিন্ন শহরে জাতীয় পতাকা হাতে যুবক-যুবতীরা স্লোগান তুলে রাস্তায় নেমে পড়েন। সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৪ জন আন্দোলনকারী। আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, বৃহত্তম রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গগন থাপা এবং বিশ্বপ্রকাশ শর্মা যৌথ বিবৃতিতে জানান, তাঁরা জেন জি গোষ্ঠীর সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে সব সিদ্ধান্ত সংবিধান ও আইনের কাঠামোর মধ্যে নিতে হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুর সেনা সদর দফতরে তৎপরতা তুঙ্গে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুশিলা কার্কি ও রাজতন্ত্রপন্থী নেতা দুর্গা প্রসাই-ও।