হংকংয়ের তাই পো-র ওয়াং ফুক কোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪৬ জনের মৃত্যু। ১৯৮০-র পর এটিই বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক আবাসিক আগুন। সামনে এল বিধ্বস্ত ভবনের ভেতরের ছবি।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 1 December 2025 13:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হংকংয়ের তাই পো এলাকার ওয়াং ফুক কোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে (Residential Fire) মৃত্যু হয় অন্তত ১৪৬ জনের। ১৯৮০-র দশকের পর এটিই বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী আবাসিক ভবন-দুর্ঘটনা বলে জানাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে একটি অ্যাপার্টমেন্টের প্রথম তলা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে প্রথমে, পরে তা কমপ্লেক্সের আটটি হাই-রাইজে ধরে যায়। সবটাই পুড়ে ছাই হয়ে যায় মুহূর্তে।
আগুন নিভেছে, হাহাকারেরও আওয়াজও খানিকটা কম, বর্তমানে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আধ পোড়া জিনিসপত্র। কত স্মৃতি, কোনটা সামলাবেন বুঝে উঠতে পারছেন না আবাসিকরা। প্রিয়জন হারানোর ঘা-ও দগদগে ফলে কোনটা ছেড়ে কোন শোকে বিহ্বল হবেন, তা বোঝার পরিস্থিতিটুকু নেই। নেই অনেকের মাথার ছাদটাও।
হংকং পুলিশের ক্যাজুয়ালিটি ইনকোয়ারি ইউনিট (Casualty Enquiry Unit)–এর চিফ সুপারিনটেনডেন্ট টসাং শুক-ইন সংবাদ বৈঠকে বলেন, “বিকেল ৪টে পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ১৪৬। আরও দেহ মিলতে পারে, আমরা তার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না।”

পুলিশ জানিয়েছে, ফ্ল্যাট , সিঁড়ি, লিফট লবি ও ছাদজুড়ে দেহের খোঁজ চলছে এখনও। ভিতরের দেওয়াল, জানলা ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তল্লাশি বেশ চাপের হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে পুলিশের ডিজাস্টার ভিকটিম আইডেন্টিফিকেশন ইউনিট (DVIU)। তাঁদের প্রথম ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সুরক্ষা পোশাক, রেসপিরেটরি মাস্ক (Respiratory Mask), হেলমেট এবং টর্চ নিয়ে ধ্বংসস্তূপে শাবল দিয়ে খুঁড়তে দেখা গেছে অনেককে।

আরও একটি ছবিতে দেখা গেছে, জ্বলে কালো হয়ে যাওয়া দেওয়াল, খসে পড়া প্লাস্টার এবং মেঝেতে পড়ে থাকা লাল রঙের স্যান্ডেল, যা ওখানকারই কোনও বাসিন্দার ছিল বলে অনুমান করছে পুলিশ।
রবিবার সারাদিন হংকংজুড়ে মানুষ নিহতদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন। ওয়াং ফুক কোর্টের সামনে সারি সারি ফুল, সফট টয়, ফল-মিষ্টি জমে ওঠে। কিছু মানুষ হাতে লেখা বার্তাও (Messages) লাগিয়ে দেন দেওয়ালে, একটিতে লেখা ছিল, “Never Forget Never Forgive”।
আগুনের উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন
RT India–র প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক কর্মী ভবনের বাইরের দেওয়ালে দাঁড়িয়ে সিগারেট (Cigarette) খাচ্ছেন, আর ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই আগুন লেগে যায়। যদিও এটি আগুনের কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এদিকে, তদন্তে উঠে এসেছে আরেক বিতর্ক, ভবনের সংস্কারে নাকি জানলার পাশে স্টাইরোফোম (Styrofoam) ব্যবহার করা হয়েছিল, যা অত্যন্ত দাহ্য। এছাড়া ভবনগুলির বাইরের অংশে বাঁশের স্কাফোল্ডিং (Scaffolding) এবং সবুজ জাল ছিল, যা আগুনের তীব্রতা বাড়িয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে।
তদন্তে তৎপর প্রশাসন
একটি ইন্টারডিপার্টমেন্টাল টাস্ক ফোর্স (Task Force) তৈরি করে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। শহরের অ্যান্টি-করাপশন ওয়াচডগ (Anti-Corruption Watchdog) ইতিমধ্যেই মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে, যাঁদের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে ম্যানস্লটারের অভিযোগ আছে।
হাউজিং ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আটটি ভবনের মধ্যে ছ’টি পরীক্ষা করে দেখেছে তারা এবং তাতে কাঠামোগত কোনও ঝুঁকি মেলেনি।
এদিকে এপর্যন্ত ৫৪টি দেহের পরিচয় নিশ্চিত হয়নি। আরও প্রায় ৪০ জনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে ১৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, আরও চারজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে।