পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের ১ আগস্ট মার্চেন্ট নেভিতে যোগ দিয়েছিলেন রক্ষিত। এটিই ছিল তাঁর প্রথম সমুদ্রযাত্রা। শেষবার ৭ জানুয়ারি পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। তারপর থেকে কোনও সরকারি আপডেট মেলেনি বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা রঞ্জিত সিং চৌহান।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 January 2026 18:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) হাতে আটক রুশ পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাঙ্কার (Russian Oil Tanker) ঘিরে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিন ভারতীয় নাবিক (Indian Navy Officer)। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হিমাচল প্রদেশের (Himachal Pradesh) কাংড়া জেলার ২৬ বছরের মার্চেন্ট নেভি অফিসার রক্ষিত চৌহান। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর বিয়ে ঠিক থাকলেও, তার আগেই নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবেন কি না - তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে পরিবার।
রুশ পতাকাবাহী ‘ম্যারিনেরা’ (আগের নাম ‘বেলা ১’) নামের ওই তেল ট্যাঙ্কারটিকে ৭ জানুয়ারি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে মার্কিন কোস্ট গার্ড আটক করে। অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্ত তেল পরিবহণের (Venezuela Bound Russian Oil Tanker) মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা হচ্ছিল। ওই জাহাজে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন। যাদের মধ্যে তিনজন ভারতীয়, ২০ জন ইউক্রেনীয়, ছ’জন জর্জিয়ান এবং দু’জন রুশ নাগরিক।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের ১ আগস্ট মার্চেন্ট নেভিতে যোগ দিয়েছিলেন রক্ষিত। এটিই ছিল তাঁর প্রথম সমুদ্রযাত্রা। শেষবার ৭ জানুয়ারি পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। তারপর থেকে কোনও সরকারি আপডেট মেলেনি বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা রঞ্জিত সিং চৌহান।
পালামপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রক্ষিতের মা রীতা দেবী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S Jaishankar) কাছে কাতর আবেদন জানান। তাঁর কথায়, “আমার ছেলেকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দয়া করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিন। ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে ১৯ ফেব্রুয়ারি। তার আগেই যেন বাড়ি ফিরতে পারে।”
রক্ষিতের বাবা জানান, রুশ একটি সংস্থার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় তেল আনতে পাঠানো হয়েছিল জাহাজটিকে। সীমান্তে প্রায় ১০ দিন অপেক্ষার পর জাহাজ ফেরার নির্দেশ পায়। সেই সময়েই মার্কিন বাহিনী জাহাজটি আটক করে।
এ ঘটনায় হিমাচল প্রদেশের পালামপুরের বিধায়ক আশিস বুটাইল বিষয়টি রাজ্য সরকারের নজরে আনার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুর সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন পরিবারকে।
বর্তমানে সমস্ত নাবিকই মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন। কবে তাঁরা মুক্তি পাবেন বা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী - তা এখনও স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।