একই ছবিতে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। সঙ্গে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি ক্ষমতায় বসেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নিকোলাস মাদুরো
শেষ আপডেট: 12 January 2026 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বিতর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এ বার তিনি নিজেকে ‘ভেনেজুয়েলার অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট’ (Venezuela Acting President) বলে ঘোষণা করলেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্পের এমন দাবি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে লাতিন আমেরিকার দেশটিতে আমেরিকার (US) ভূমিকা নিয়ে।
রবিবার করা ওই পোস্টে ট্রাম্পের সরকারি প্রতিকৃতির সঙ্গে লেখা ছিল, “Acting President of Venezuela, Incumbent January 2026।” একই ছবিতে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। সঙ্গে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি ক্ষমতায় বসেন।

এই ঘোষণার সময়টা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কয়েক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় ‘বৃহৎ সামরিক অভিযান’ চালায় বলে দাবি করে। সেই অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দু’জনের বিরুদ্ধেই মাদক-সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা চলছে।
এর পর ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলায় “নিরাপদ, যথাযথ ও বিচক্ষণ রাজনৈতিক রূপান্তর” না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক দেখভালের দায়িত্ব নেবে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর যুক্তি, নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হলে তা ভেনেজুয়েলার স্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর হবে।
মাদুরো অপসারিত হওয়ার পরে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তেলমন্ত্রী দেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়েছে। যদিও এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাকে ঘিরেও দেশটির ভিতরে ও বাইরে বিতর্ক কম নয়।
এর মধ্যেই ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ‘উচ্চমানের, অনুমোদিত তেল’ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। তাঁর বক্তব্য, ওই তেল বাজারদরে বিক্রি করা হবে এবং তার থেকে প্রাপ্ত অর্থের নিয়ন্ত্রণ থাকবে মার্কিন প্রশাসনের হাতে। সেই অর্থ নাকি দুই দেশেরই উপকারে আসবে। এই পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করতে জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটকে নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাম্প। তেল সংরক্ষণকারী জাহাজে করে সেই তেল আমেরিকার বন্দরে আনার কথা বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে কিউবার প্রতিও কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ ও আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। এতে স্পষ্ট, গোটা অঞ্চলের প্রতি ওয়াশিংটনের নীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘোষণা এলেও বাস্তব নথিতে তার প্রতিফলন নেই। উইকিপিডিয়া বা অন্য কোনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃত নথিতে ট্রাম্পের নাম ভেনেজুয়েলার ‘অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে নথিভুক্ত নয়। সেখানে শুধু মার্কিন সামরিক অভিযান, মাদুরোর গ্রেফতার এবং কারাকাসে অন্তর্বর্তী সরকারের বিতর্কিত ক্ষমতা গ্রহণের কথাই উল্লেখ রয়েছে।