রবিবার গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে আমেরিকা।
.jpeg.webp)
ট্রাম্পের কথায়, আমরা বিষয়টা খুব গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ছবিতে এআই ব্যবহার করা হয়েছে।
শেষ আপডেট: 12 January 2026 10:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে চলতি বিক্ষোভের (Iran protests) প্রেক্ষিতে সেনা অভিযান-সহ (US military intervention Iran) একাধিক শক্তিশালী বিকল্প বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump Iran options)। রবিবার গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে আমেরিকা। ট্রাম্পের কথায়, আমরা বিষয়টা খুব গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সামরিক বাহিনীও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। কয়েকটি খুব শক্তিশালী পাল্টা চাল রয়েছে। আমরা দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।
তিনি আরও দাবি করেন, সেনা অভিযানের হুমকির পর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব (Ayatollah Ali Khamenei threat) নাকি যোগাযোগ করেছে এবং আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। ট্রাম্প জানান, একটি বৈঠকের প্রস্তুতিও চলছে। তবে একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বৈঠকের আগেই আমাদের হয়তো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে (US Iran conflict)।
এরই মধ্যে তেহরান কড়া ভাষায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, ইরানের উপর হামলা হলে আমেরিকার নেতৃত্বে দখল করা ভূখণ্ডগুলির (ইজরায়েল) পাশাপাশি সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজকে আমরাও আমাদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাব।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। কারণ, ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ পতন। দ্রুতই সেই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। প্রথমে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ দেখা দিলেও, পরে তা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদে রূপ নেয়।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই অস্থিরতায় অন্তত ১০৯ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তবে কতজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। দেশের বাইরে থাকা বিরোধী কর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি এবং তার মধ্যে শতাধিক বিক্ষোভকারী রয়েছেন। এদিকে, পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলির মতে, টানা ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গোটা ইরানে কার্যত ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্পের আগ্রাসী বিদেশনীতি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সম্প্রতি তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘অপহরণ’ করে বন্দি করেছেন (Nicolas Maduro captivity), আবার গ্রিনল্যান্ডকে (Greenland acquisition Trump) কেনা বা প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দখলের কথাও বলেছেন। রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্ভাব্য বিকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে সেনা অভিযান, গোপনে সাইবার অস্ত্রের ব্যবহার (Cyber attack Iran), চলতি অবরোধ আরও কঠোর করা এবং সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলিকে অনলাইন সহায়তা দেওয়া।
রবিবার ট্রাম্প জানান, ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা ফেরাতে তিনি ধনকুবের ইলন মাস্কের (Elon Musk) সঙ্গে কথা বলবেন। মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্স (SpaceX) পরিচালিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিঙ্ক আগেও ইরানে ব্যবহৃত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ও এই ধরনের কাজে খুব ভালো। ওর সংস্থাটাও খুব ভালো। এদিন ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলা (Venezuela) নিয়েও মন্তব্য করেন। গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডেনমার্কের এই মেরু প্রদেশীয় অঞ্চলকে চুক্তি করতে হবেই এবং স্পষ্ট করেন, এটা কোনও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির কথা নয়, আমরা সেটি দখলের কথা বলছি। ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, আগামী মঙ্গল বা বুধবার তিনি সে দেশের বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোর (Maria Corina Machado) সঙ্গে বৈঠক করবেন।