গাজায় দুই বছরের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পর প্রায় ১০ দিন আগে হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হামলা
শেষ আপডেট: 19 October 2025 23:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজায় দুই বছরের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পর প্রায় ১০ দিন আগে হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়েছে। রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) ঘোষণা করেছে যে, তারা গাজার দক্ষিণ অংশে হামাসের 'সন্ত্রাসবাদী লক্ষ্যবস্তুতে' নতুন হামলা চালিয়েছে।
গাজার স্থানীয় সরকারি কর্তৃপক্ষের তথ্য অন্যসারে, রবিবারের এই হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন।
ইজরায়েলি সেনারা জানিয়েছে, তারা গাজার বিভিন্ন স্থানে হামাসের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে এবং এটি করা হয়েছে 'যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘনের জবাবে'।
এরপরই ইজরায়েলের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক এক সংবাদসংস্থাকে জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সহায়তা সরবরাহ স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হামাসের স্পষ্ট চুক্তি লঙ্ঘনের কারণে গাজায় সহায়তা প্রবাহ অচল করা হয়েছে।”
ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) আরও জানিয়েছে, রবিবারের হামলা মূলত 'গাজায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত সুড়ঙ্গ এবং সামরিক কাঠামো ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে' করা হয়েছে। ইজরায়েলি সেনার দাবি, “রাফাহ অঞ্চলে সন্ত্রাসীরা ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সৈন্যদের লক্ষ্য করে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র ও গুলি চালিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।”
IDF আরও জানিয়েছে, “বেইট লাহিয়ার এলাকায় আমাদের সৈন্যদের দিকে অগ্রসর হওয়া সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য নির্ধারণের পর আমরা তাঁদের আঘাত করেছি। আমাদের সৈন্যরা যে কোনও হুমকি নির্মূল করতে কাজ চালিয়ে যাবে।”
রবিবারের এই হামলার আগে, শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল যে, তাদের কাছে 'বিশ্বস্ত তথ্য' আছে যে হামাস গাজায় হামলার পরিকল্পনা করছে। তবে হামাস এই দাবিকে অস্বীকার করেছে।
ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুও শনিবার সতর্ক করেছেন, গাজা যুদ্ধ শেষ হবে শুধুমাত্র তখনই যখন হামাসকে নিরস্ত্র করা হবে এবং ফিলিস্তিন অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করা হবে।