হামাস গাজার সাধারণ মানুষের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছে বলে সতর্ক করেছে আমেরিকা। ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি লঙ্ঘন হলে তার ফল ভুগবে হামাসকে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 19 October 2025 10:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি মাসের শুরুতেই হামাস এবং ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হলেও, গাজায় শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরেই ইজরায়েল সেনা প্রত্যাহার শুরু করলে, গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে তৎপর হয় হামাস। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, হামাস খুব শীঘ্রই গাজার সাধারণ মানুষের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছে।
আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, হামাস গাজার সাধারণ মানুষের উপরে আক্রমণের পরিকল্পনা ছকে ফেলেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমেরিকার কাছে 'বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট' আছে যে হামাস খুব শীঘ্রই গাজার সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাবে।
হামাস এই হামলা চালালে তা হবে যুদ্ধবিরতির 'স্পষ্ট লঙ্ঘন'। প্রশ্ন উঠছে, হামাস এই যুদ্ধবিরতিকে কি কেবলই আন্তর্জাতিক নেতাদের চোখে ধুলো দেওয়ার ফন্দি হিসেবে ব্যবহার করছে?
এই রিপোর্টের পরেই আমেরিকা হামাসকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, চুক্তি লঙ্ঘন হলে তার ফল ভুগতে হবে। মার্কিন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "চুক্তি মেনে যুদ্ধবিরতি পালন করতে হবে। এর অন্যথা হলে, ফল ভুগতে হবে হামাসকে, আর সেটা সুখকর হবে না।"
তবে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে আমেরিকা গাজায় সেনা মোতায়েন করবে না। তিনি বলেন, "আমরা সেনা পাঠাব না। তার দরকারও নেই। কাছাকাছি অনেকেই আছে, যারা আমাদের নজরদারিতে এই কাজটা খুব সহজেই করে দেবে।" ট্রাম্প সরাসরি ইজরায়েলের নাম না নিলেও, তাঁর ইঙ্গিত স্পষ্টতই সেদিকেই ছিল।
উল্লেখ্য, শান্তি চুক্তি হওয়ার পরেও গত ১৫ অক্টোবর গাজায় প্রকাশ্যে ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল হামাস। বেধড়ক মারধরের পরে চোখ বেঁধে রাস্তায় বসিয়ে গুলি করে মারা হয়েছিল তাদের। হামাসের দাবি ছিল, এই ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই 'অপরাধী' এবং ইজরায়েলের সাহায্যকারী।
এই ঘটনার ঠিক আগের দিন ট্রাম্প হামাসকে অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, "অস্ত্র ছাড়ুন। না হলে আমরা জানি কী ভাবে ছাড়াতে হয়।" কিন্তু সেই নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হামাস তাদের হত্যালীলা চালিয়ে যাচ্ছে।