ভারতের এই ভূমিকা নতুন নয়। আফগানিস্তান (Afghanistan) পুনর্গঠনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বস্তুত সেই কারণেই তালিবান নেতৃত্ব দ্বিতীয় বার ক্ষমতা দখলের পর ভারতের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 October 2025 07:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজায় (Gaza) শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ পুরো মাত্রায় শুরু হয়েছে। প্যালেস্তাইনের মানুষ ধীরে ধীরে নিজেদের বাসগৃহে ফিরছেন। কথামতো হামাস বন্দি ইজরাইলি ও অন্যান্য বিদেশিদের ফেরত দিয়েছে।
এখন গাজায় প্রধান দুটি কাজ হল ত্রাণ সরবরাহ বাড়ানো এবং পুনর্গঠন এর কাজ শুরু করা। শহরের ৮০ শতাংশ বাড়িঘর বিধ্বস্ত। সেগুলি বসবাসযোগ্য করে তোলা এবং অফিস কাছারি পুনরায় চালু করতে গেলে পরে অবকাঠামো দ্রুত উন্নতি করা দরকার।
জানা যাচ্ছে এই কাজে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ডাকে আয়োজিত শান্তি সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (India PM Narendra Modi) তরফে তিনি সম্মেলনে জানিয়েছেন ভারত প্যালেস্তাইনের পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী।
আপাতত গাজায় বিপুল পরিমাণে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য সামগ্রী ছাড়াও ওষুধ জামাকাপড় এবং মহিলাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বেশি করে পাঠানো সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। নয়াদিল্লির একটি সূত্র জানাচ্ছে অচিরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে প্যালেস্তাইন পুনর্গঠন কমিটি গঠন করা হতে পারে। সেই কমিটি ভারতের তরফে সেখানে ত্রাণ ও পুনর্গঠন এর কাজ পর্যালোচনা করবে।
ভারতের এই ভূমিকা নতুন নয়। আফগানিস্তান (Afghanistan) পুনর্গঠনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বস্তুত সেই কারণেই তালিবান নেতৃত্ব দ্বিতীয় বার ক্ষমতা দখলের পর ভারতের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। কাবুলের সরকারি টেলিভিশন স্টেশনটি ভারতের দূরদর্শন কর্তৃপক্ষের তৈরি করা। এছাড়া সে দেশে অসংখ্য রাস্তা সেতু এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল তৈরি করে দিয়েছে ভারত। এজন্য একটি বিশেষ বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল নয়া দিল্লি।
মনে করা হচ্ছে প্যালেস্তাইনের ব্যাপারেও একই পথে এগোবে নরেন্দ্র মোদী সরকার। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল, প্যালেস্তাইনের সঙ্গে ভারতের যে দীর্ঘ সম্পর্ক তার প্রতিফলন মোদী সরকারের কাজকর্মে দেখা যাচ্ছে না। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এই ব্যাপারে সংবাদপত্রে একাধিক নিবন্ধ লিখে দলের তরফে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কংগ্রেস, বাম দলগুলি এবং সমাজবাদী পার্টি ও ডিএমকে'র তরফ থেকেও মোদী সরকারের ভূমিকার নিন্দা করা হয়েছিল।