একের পর এক ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় চাপে পড়েছেন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। কী রয়েছে সেই ভিডিওগুলিতে?

আসিম মুনির
শেষ আপডেট: 23 October 2025 13:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন করে অস্বস্তি বাড়ছে পাকিস্তানের (Pakistan) অন্দরে। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর একের পর এক ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় চাপে পড়েছেন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (Asim Munir)। কী রয়েছে সেই ভিডিওগুলিতে?
ওই ভিডিওগুলিতে টিটিপি-র শীর্ষ কমান্ডার কাজিমকে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তান সেনাকে প্রকাশ্যে হুমকি দিতে। তাঁর কথায়, “সেনা (Pakistan Army) পাঠিয়ে লাভ নেই, এবার সেনাপ্রধান ও অফিসাররা নিজেরাই নামুন ময়দানে।” টিটিপি প্রকাশিত ভিডিওগুলিতে দেখা গেছে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কুররম এলাকায় ৮ অক্টোবরের এক মারণ হামলার দৃশ্য। টিটিপি দাবি করেছে, ওই হামলায় পাকিস্তানের ২২ জন সেনা নিহত হয়েছেন। ভিডিওতে দেখানো হয়েছে দখল করা গাড়ি ও অস্ত্রও। যদিও পাকিস্তান সেনার সরকারি তথ্য অনুযায়ী নিহত জওয়ানের সংখ্যা ১১।
একটি ভিডিওতে পাক কর্তৃপক্ষ যাকে কমান্ডার কাজিম বলে শনাক্ত করেছে, তাঁকে বলতে দেখা যায়, “পুরুষ হলে সামনে এসো। মায়ের দুধ খেয়ে থাকলে লড়ো।” এই বক্তব্যের পরই ২১ অক্টোবর ইসলামাবাদ (Islamabad) ঘোষণা করে, কাজিমকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে ১০ কোটি পাকিস্তানি রুপি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে চলছিল টানা গোলাগুলি ও বিমান হামলা (Pakistan Afghanistan War)। দু’দেশের মধ্যে বেসামরিক প্রাণহানিও হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় অক্টোবরের মাঝামাঝি ঘোষিত হয় যুদ্ধবিরতি। দোহায় প্রকাশ্যে জানানো হয়, সীমান্তে উত্তেজনা ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে ইসলামাবাদের বক্তব্য, যুদ্ধবিরতি টিকবে তখনই, যখন কাবুল সরকার আফগান মাটি থেকে সক্রিয় টিটিপি-সহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলির বিশ্লেষণ, টিটিপি-র সাম্প্রতিক সাফল্যে উৎসাহ পাচ্ছে আরও কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন—লস্কর-ই-জঙ্গভি (এলইজে), ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ (আইএসকেপি) ও জইশ-ই-মহম্মদ। বিশেষত এলইজে-র অতীতে পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার ইতিহাস রয়েছে, আর আইএসকেপি আগেও টিটিপি-র হতাশ যোদ্ধাদের দলে টেনেছে।
ক্রমবর্ধমান এই হামলার পর পাকিস্তান সেনার অক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দেশজুড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জঙ্গি দমন বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ - কোনওটিরই কার্যকর রূপরেখা দিতে পারছে না ইসলামাবাদ।