ট্রাম্প ভেবেছিলেন ভারত ভয় পেয়ে পিছু হটবে, কিন্তু আসলে তিনি ভারতকে হালকাভাবে নিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, 'মোদীজি সৌজন্যমূলকভাবে ট্রাম্পের টুইটের জবাব দিয়েছেন।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 8 September 2025 08:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) কিছুদিন আগে ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে 'বিশেষ' বলেছেন। কিন্তু তারপরই ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক কে.পি. ফ্যাবিয়ান মন্তব্য করেন, 'ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বাণিজ্যনীতি আসলে কাজ করছে না। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল (Russian Oil) কেনার কারণে ভারতের (India) উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকিও কোনো ফল আনতে পারেনি।'
ফ্যাবিয়ান বলেন, আমেরিকা যে শুল্ক বসিয়েছে, তার কোনও শক্ত ভিত্তি নেই। ট্রাম্প ভেবেছিলেন ভারত ভয় পেয়ে পিছু হটবে, কিন্তু আসলে তিনি ভারতকে হালকাভাবে নিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, 'মোদীজি সৌজন্যমূলকভাবে ট্রাম্পের টুইটের জবাব দিয়েছেন। কিন্তু এতে ধরে নেওয়া ভুল হবে যে সমস্যার সমাধান এখনই হয়ে যাবে। আমি একে বলি ‘ট্রিপল টি’ - Trumped-up Trump Tariff, মানে ভিত্তিহীন শুল্ক। ট্রাম্প এখন বুঝতে পারছেন যে ভারত কখনও ভয় পেয়ে নতি স্বীকার করবে না।'
ফ্যাবিয়ান স্পষ্ট করে জানান, ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সঠিক ব্যবসা চায়, কিন্তু একতরফা সিদ্ধান্ত বা জোরজবরদস্তি মানবে না। তাঁর কথায়, 'ভারত মানে ভারত। এটি এক সভ্যতার দেশ। ভারত কারও অনুসারী হতে পারে না। ভারত সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায়, ব্যবসাও করতে চায়, কিন্তু কারও ভুল নির্দেশ মেনে নেবে না।'
এদিকে, হোয়াইট হাউস থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি দাবি করেন, মোদীর সঙ্গে বন্ধুত্ব সবসময় অটুট থাকবে। যদিও ভারতের কিছু সাম্প্রতিক পদক্ষেপে তিনি অসন্তুষ্টির কথাও উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনার বিষয়ে তাঁর হতাশা রয়েছে। এ ছাড়াও, ভারত থেকে আমদানি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে, সেই কথাও মনে করিয়ে দেন ট্রাম্প।
'ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক ভবিষ্যতমুখী এবং এটি একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতিফলন। ট্রাম্পের সৌহার্দ্যের বার্তাকে তিনি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং তা সম্পূর্ণভাবে প্রতিদানও দেন।'
ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গণতন্ত্র, অভিন্ন স্বার্থ এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েও এই বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে। তাঁর কথায়, ভারত আশা করছে পারস্পরিক সম্মান ও যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে।