সোমবার সন্ধ্যায় ইথিওপিয়া থেকে ছাইয়ের মেঘ ইয়েমেন ও ওমান পেরিয়ে আরব সাগরের উপর দিয়ে ভারতের আকাশে প্রবেশ করে। প্রথমে গুজরাট ও রাজস্থান, তারপর মধ্যরাতে দিল্লির উপর দিয়ে তা পূর্ব ও উত্তর–পূর্ব ভারতের দিকে এগোয়। মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ মেঘটি বাংলা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের উপর দিয়ে চলে চিনের দিকে ধেয়ে যায়। IMD জানিয়েছে, বুধবারের মধ্যেই ভারতের আকাশ পুরোপুরি ছাইমুক্ত হয়ে যাবে।

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 25 November 2025 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইথিওপিয়ার হাইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরির (ethiopia volcano eruption) অগ্ন্যুৎপাত থেকে তৈরি হওয়া বিশাল ছাইয়ের মেঘ ভারতের পূর্ব ও উত্তর–পূর্ব আকাশ পেরিয়ে এখন চিনের দিকে এগোচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এমনই জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)। তবে সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ নেই—এমনটাই আশ্বাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
কলকাতা-সহ বিমান পরিষেবায় প্রভাব (ethiopia volcano eruption impact on Kolkata flight)
ছাইয়ের মেঘটি ৮ থেকে ১৫ কিলোমিটার উচ্চতায় ভেসে চলেছে। এই উচ্চতায় ঘণ্টায় ১০০-১৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে, ফলে ছাই দ্রুতই পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে। কিন্তু এই উচ্চতাই বিপদ ডেকে আনতে পারে বিমান পরিবহণে।
IMD–র মহাপরিচালক মৃণাল কান্তি মহাপাত্র জানিয়েছেন—"ছাইয়ের মূল প্রভাব বিমান চলাচলের উপর। দিল্লি, কলকাতা এবং মুম্বইয়ের আকাশপথে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যদিও মাটির স্তরে কিংবা আবহাওয়ায় কোনও প্রভাব পড়বে না।”
কলকাতা বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে এর অর্থ—
আকাশপথে ছাইয়ের ঘনত্ব বাড়লে ফ্লাইট রুট পরিবর্তন করা হতে পারে।টেক-অফ ও ল্যান্ডিংয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হবে। দৃশ্যমানতায় সমস্যা না হলেও ইঞ্জিনে ছাই ঢোকার ঝুঁকি এড়াতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেহেতু পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বা বৃষ্টি নেই, তাই ছাই নীচে নেমে শহরের বায়ু বা পরিবেশে প্রভাব ফেলার আশঙ্কা নেই, যা কলকাতার বাসিন্দাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
কীভাবে এই মেঘ এল ভারতের আকাশে?
সোমবার সন্ধ্যায় ইথিওপিয়া থেকে ছাইয়ের মেঘ ইয়েমেন ও ওমান পেরিয়ে আরব সাগরের উপর দিয়ে ভারতের আকাশে প্রবেশ করে। প্রথমে গুজরাট ও রাজস্থান, তারপর মধ্যরাতে দিল্লির উপর দিয়ে তা পূর্ব ও উত্তর–পূর্ব ভারতের দিকে এগোয়। মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ মেঘটি বাংলা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের উপর দিয়ে চলে চিনের দিকে ধেয়ে যায়। IMD জানিয়েছে, বুধবারের মধ্যেই ভারতের আকাশ পুরোপুরি ছাইমুক্ত হয়ে যাবে।
দক্ষিণ ভারতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ ভারতে আগামী কয়েক দিন ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তামিলনাড়ুতে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ২৬ নভেম্বর কেরলে বৃষ্টি হবে।২৯ নভেম্বর পর্যন্ত আন্দামান–নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও রায়লসীমা অঞ্চলে বৃষ্টি হবে।
উত্তর ভারতে শৈত্যপ্রবাহ শুরু
জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ ও গিলগিট–বালতিস্তানের বহু জায়গায় তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে। হরিয়ানার হিসারে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৬.৩ ডিগ্রি।
কলকাতার জন্য কী বার্তা?
আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের মেঘে শহরের বায়ুগুণ বা স্বাস্থ্যে কোনও প্রভাব পড়বে না।তবে বিমানবন্দরকে সতর্কভাবে পরিচালনা করতে হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক, বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আগামী কয়েক দিনে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মৌসুমি গড়ের কাছাকাছি থাকবে। আগ্নেয়গিরির ছাই নিয়ে অযথা আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছে IMD। তবে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সতর্কতা অব্যাহত থাকবে।