কলকাতা থেকে প্রতিমা ও ঢাক এসে পৌঁছেছে জার্মানির এসেনে। ‘নিভৃত্তি’ নামের দুর্গাপুজো চলছে টানা ছয় দিন, থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাঙালি পঞ্চব্যঞ্জন।

জার্মানির দুর্গাপুজো।
শেষ আপডেট: 30 September 2025 12:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবাসে থেকেও দুর্গাপুজোর রঙিন আবেশে মাতোয়ারা বাঙালিরা। এবারে সেই আবহ ঘিরে ধরেছে জার্মানির এসেন শহরকে। বিশ্বযুদ্ধে গুঁড়িয়ে যাওয়া জার্মানিতে বহু বাঙালির বাস। পুজোও হয় বেশ কিছু। এসেন তাদেরই একটা।
গতবার তাদের প্রতিমা আটকে যাওয়ার কারণে মন খারাপ ছিল বটে, কিন্তু এবারের আয়োজন যেন সেই সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে। আরও জাঁকজমক, আরও প্রাণচাঞ্চল্য নিয়ে এগোচ্ছে এবারের পূজা। উদ্যোগ নিয়েছে শহরের বাঙালি সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান কালচারাল কানেকশন এসেন’।

এসেনে দুর্গাপুজোর শুরু হয়েছিল গত বছর। কিন্তু দুর্ভাগ্যের কারণে পূজোর আগে প্রতিমা আটকে যায় নেদারল্যান্ডসের রটারডাম বন্দরে। তবু আয়োজকেরা হার মানেননি। একটি ছোট প্রতিমা এনে নিয়মমাফিক পূজা সম্পন্ন হয়েছিল। তবে সবার ভেতরে থেকেই গিয়েছিল অপূর্ণতা।
সেই শূন্যতা এবার ভরাট হয়েছে নতুন আনন্দে। কলকাতা থেকে এসে পৌঁছেছে বিশাল পাঁচ-চালার প্রতিমা, সঙ্গে আছে ঢাকের বাদ্য। বাজনার তালে যেন প্রবাসের মাটিতেও ফিরে এসেছে বাংলার ছোঁয়া। পূজার সব আচার মেনে পরিচালনার জন্য পুরোহিতও এসেছেন সরাসরি কলকাতা থেকে। যেন বিদেশের শহরে জেগে উঠেছে এক টুকরো বাংলা।

এবারের পূজোর নাম রাখা হয়েছে ‘নিভৃত্তি’। বার্লিন পঞ্জিকা অনুযায়ী টানা ছয় দিন ধরে চলবে এই উৎসব। প্রতিদিন সাজানো থাকছে নানা রঙিন আয়োজন। ছোটদের জন্য থাকছে নাটক লক্ষ্মণের শক্তিশেল, আর বড়দের জন্য নাট্যমঞ্চ ছাড়াও থাকছে মহিলাদের ফ্যাশন শো। সেখানে ভারতের নানা রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রদর্শিত হবে।
কেবল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই নয়, খাদ্যরসিক বাঙালির জন্যও আছে বিশেষ আয়োজন। প্রতিদিন পরিবেশন করা হবে জমকালো পঞ্চব্যঞ্জন। কারণ, বাঙালির পুজো আর খাওয়া—দাওয়ার আনন্দ তো একে অপরের পরিপূরক।
আরতির ধূপকাঠি, সন্ধিপূজার আলো আর অঞ্জলির ফুলে প্রতিদিন ভরে উঠবে পূজামণ্ডপ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এসেন শহরে এসে পৌঁছেছেন মা দুর্গা। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়াও এই পূজা হয়ে উঠেছে প্রবাসী বাঙালিদের হৃদয়ের মিলনমেলা। জার্মানির বুকে এক নতুন অধ্যায়ে লেখা হচ্ছে বাঙালি সংস্কৃতির গল্প।