দু-দুটো বিখ্য়াত গাড়ি কোম্পানির নজরকাড়া মিউজিয়ামও রয়েছে এখানে! সেই স্টুটগার্টেও এখন দুর্গাপুজোর (Durgapuja 2025) আবেশ। ঢাকের বোলে ধাক্কা খাচ্ছে প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা।

শেষ আপডেট: 22 September 2025 19:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেকার নদীর ধারে সবুজে সাজানো স্টুটগার্ট। মার্সিডিজ আর পোর্শের স্টিয়ারিং-এ হাত রাখার স্বপ্ন যাঁদের চোখে, জার্মানির এই শহর তাঁদের কাছে ড্রিমল্যাল্ড (Dreamland)। এই শহরেই যে তৈরি হয় মার্সিডিজ আর পোর্শে। দু-দুটো বিখ্য়াত গাড়ি কোম্পানির নজরকাড়া মিউজিয়ামও রয়েছে এখানে! সেই স্টুটগার্টেও এখন দুর্গাপুজোর (Durgapuja 2025) আবেশ। ঢাকের বোলে ধাক্কা খাচ্ছে প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা।
স্টুটগার্টে বাঙালিদের মৈত্রী ক্লাবের দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2025) এবার পাঁচবছর। তাই জাঁকজমকে নিজেদেরই টেক্কা দেওয়ার পালা। এই শহরে অন্য আরও তিনটি পুজো হলেও মৈত্রীর আয়োজন বরাবরই চোখধাঁধানো। কলকাতার কুমোরটুলি থেকে প্রতিবার প্রতিমা আসে তাঁদের। পুজোর বয়স পাঁচ হল, তাই এবার মণ্ডপের অর্ডারও দিয়েছিলেন। কিন্তু ফাইবারের চোখধাঁধানো সেই মণ্ডপ এসে পৌঁছয়নি এখনও। পুজোর উদ্যোক্তা অমিত চক্রবর্তী বলেন, "ফাইবারের মণ্ডপের অর্ডার দিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু এখনও এসে পৌঁছয়নি। জাহাজে রয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। তাই এবার আর সাধের মণ্ডপে পুজো করা গেল না। সামনের বছর এই মণ্ডপে পুজো হবে।" এবারের পুজোকে বিশেষ মাত্রা দিতে ক্লাবের সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন বলেও জানালেন তিনি।

পাঁচবছরের পুজোতে এবার খাবারদাবারেরও দেদার আয়োজন। প্রতিদিন পাত পড়বে বহু মানুষের। সাগরপারের পুজো হলেও মোটেই অবহেলিত নয় বাঙালির রসনা। দুপুরে থাকছে ঘিয়ের গন্ধভরা মুগ ডালের খিচুড়ি,আলুর ভাজা আর লাবড়া। সন্ধ্যার আসরে ক্রিস্পি চিকেন উইংস, পনির পাকোড়া, ফিশ অমৃতসরি ফ্রাই, চিকেন কোরমা আর পনির কোরমা। মিষ্টিপ্রেমীদের জন্য থাকছে ডাব সন্দেশ, নলেন গুড়ের মিষ্টি, ক্ষীর আর কেসরী হালুয়া। স্টুটগার্টের টিনদের জন্য থাকবে হট চকোলেট ব্রাউনিও।
অমিত জানান, ছুটিছাটার সমস্যা রয়েছে। তাই বরাবরই উইকএন্ডে পুজো হয়। এবারও ২৬ থেকে ২৮ এই তিনদিনে তাঁরা সেরে ফেলবেন ষষ্ঠীর বোধন থেকে দশমীর বিসর্জন। তবে আচার ও নিষ্ঠায় পুষিয়ে দেবেন সময়ের ঘাটতি। তিনি বলেন, স্টুটগার্টের বাঙালিরা মেতে উঠেছেন উৎসবে। সেই হাওয়ায় ভেসেছে মৈত্রীর সদস্য়রাও। আয়োজনের প্রতিটি ধাপে তাঁদের আন্তরিকতা স্পষ্ট।"

প্রতিবারের মতো এবারও পুজোর সন্ধেগুলিতে তাঁরা মেতে উঠবেন ধুনুচি নাচ, ফ্যাশন শো, গান-বাজনা আর হাসি-আড্ডায়। ‘ঘরভোলা’ নাট্যদলের পরিবেশনায় পরশুরামের ‘বিরিঞ্চি বাবা’ অনুষ্ঠিত হবে। ছোটরাও অংশ নিচ্ছে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ পরিবেশনায়। প্রবাসে থেকেও স্বদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে এভাবেই হয় সেতুবন্ধন। তাই প্রত্যেকবারই পুজোর প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের তোড়জোড় চলে। ক্লাব সদস্যদের অনেকেই যে গুণী মানুষ। তাঁদের নেতৃত্বেই এগিয়ে যায় ছোট-বড় সবাই। অমিত জানান, এবার পাঁচ বছরের পুজোয় বাড়তি চমক কলকাতা থেকে আসছেন বিখ্যাত সেতারবাদক পূর্বায়ন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সুরের মূর্ছনায় মাতোয়ারা হবেন জার্মানির বাঙালি সমাজ। তাঁর কথায়, "সবশেষে মৈত্রীর উদ্দেশ্য একটাই, দুর্গাপুজোর মাধ্যমে মানুষে মানুষে বন্ধন তৈরি করা, বাংলার শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে আরও উজ্জ্বল করা। মায়ের আশীর্বাদে ভরে উঠুক সবার মন।"