বিতর্কিত এপস্টাইন ফাইলসে (Epstein files) রয়েছে নেশার ঘোর কাটাতে প্রাচীন ভারতীয় কায়দায় তিলের তেল দিয়ে দেহমর্দনের উপযোগিতার ছবিসহ বর্ণনা।

প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদিক তৈলমর্দনের উল্লেখের বিষয়টি সামনে এসেছে।
শেষ আপডেট: 22 December 2025 13:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্কিত এপস্টাইন ফাইলসে (Epstein files) রয়েছে নেশার ঘোর কাটাতে প্রাচীন ভারতীয় কায়দায় তিলের তেল দিয়ে দেহমর্দনের উপযোগিতার ছবিসহ বর্ণনা। শিশু-কিশোরী যৌন নির্যাতনের শাস্তিপ্রাপ্ত অবস্থায় জেলে আত্মহত্যা করা জেফ্রি এপস্টাইনের নিজস্ব তহবিল থেকে যে সমস্ত কাগজপত্র উদ্ধার ও সাক্ষীসাবুদের বয়ান নথিভুক্ত হয়েছিল, তার ফাইল প্রকাশের পরেই প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদিক তৈলমর্দনের উল্লেখের বিষয়টি সামনে এসেছে। জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধুত্ব ছিল প্রায় ১৫ বছর ধরে। ট্রাম্প ছাড়াও বিল ক্লিনটন ও অন্যান্য বহু অভিজাতকে শিশু-কিশোরী, তরুণী সরবরাহ করেছিলেন এপস্টাইন।
খোদ ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আমি জেফকে চিনি ১৫ বছর ধরে। ও খুব ভাল মানুষ। আমরা দুজনেই কচি মেয়ে ভালবাসি। ১৯৯২ সালে ট্রাম্প তাঁর ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসর্টে একটি পার্টি দেন। তাতে এপস্টাইন ছাড়াও উপস্থিত ছিল বহু চিয়ারলিডার্স। সংবাদমাধ্যম এনবিসি সেই পার্টির ছবি প্রকাশ করে ২০১৯ সালে। সেখানে দেখা যায়, ট্রাম্প একটি কিশোরী মেয়ের গায়ে হেলে পড়ে বলছেন, দেখো, কেমন উষ্ণতায় ভরা সে। যদিও ওই বছরেই ট্রাম্প দাবি করেন, এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর ১৫ বছর ধরে কোনও কথাবার্তা নেই। তিনি আর তাঁকে বন্ধু বলে পরিচয় দেন না।
আমেরিকার বিচার বিভাগে যৌন অপরাধে সাজা হয় এপস্টাইনের। ২০১৯ সালে ম্যানহাটন জেলে আত্মহত্যা করেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে বহু অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যৌন অপদস্থ, জোর করে যৌনকর্মে লিপ্ত এবং মেয়ে পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। গত মাসে ট্রাম্পই এপস্টাইনের সেই সমস্ত কাগজপত্র, ফাইল ৩০ দিনের মধ্যে প্রকাশের ব্যাপারে একটি বিলে সই করেন। তারপরেই শুক্রবার দেশের বিচার বিভাগ সেগুলি প্রকাশ করে। যাতে তৈলমর্দন ও প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদিক কায়দায় শরীরী সুখের ছবিসহ বর্ণনা রয়েছে।
‘ম্যাসাজ টেকনিকস’ ও ভারতীয় আয়ুর্বেদ নিয়ে এমন বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, মূলত তার হয়ে কাজ করা মেয়েদের শিক্ষণীয় কায়দা হিসেবে। এই অংশে রয়েছে ভারতের প্রাচীন আয়ুর্বেদ চিকিৎসার উপযোগিতার বিস্তারিত বর্ণনা। যেখানে আয়ুর্বেদিক তেল দেহে মাখিয়ে মালিশ করার মধ্য দিয়ে নেশার ঘোরঘোর ভাব কাটিয়ে শরীরকে সতেজ-স্ফূর্তিদায়ক করে তোলা যেতে পারে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, পশ্চিমী দেশগুলির অনেক মানুষ এখন ম্যাসাজ থেরাপি নিচ্ছেন। একইসঙ্গে ভারতের প্রায় ৫,০০০ বছর পুরনো প্রাকৃতিক নিরাময় কৌশলের উপর ভরসা রাখছেন।

'The Art of Giving Massage' শীর্ষক ফাইলে ছবিসহ বর্ণনা দিয়ে বোঝানো হয়েছে, কীভাবে একজন পুরুষ বা নারী শরীরকে তিলের তেল দিয়ে মর্দন করে নেশাচ্ছন্ন ভাব থেকে মুক্ত করে ফের সতেজ করে তোলা যায়। এই ফাইলে ধাপে ধাপে কীভাবে ম্যাসাজ করতে হবে তার তালিম রয়েছে। যেখানে মেয়েদের শেখানো হয়েছে কীভাবে ক্লায়েন্টদের খুশি করে তুলতে হবে, তার সচিত্র পদ্ধতিও।