প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চৌহান গত শনিবার এ ব্যাপারে কেন্দ্রকে স্পষ্ট অবস্থান ব্যাখ্যার দাবি তুলেছেন।
.jpeg.webp)
দ্য সানডে গার্ডিয়ান লিখেছে, এপস্টাইন ফাইলে বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল ভারতীয়ের নাম তালিকায় রয়েছে।
শেষ আপডেট: 22 December 2025 11:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় ঝড় তোলা কেলেঙ্কারির খাতায় নাম রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। এমনটাই অভিযোগ কংগ্রেসের। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চৌহান গত শনিবার এ ব্যাপারে কেন্দ্রকে স্পষ্ট অবস্থান ব্যাখ্যার দাবি তুলেছেন। শুধু মোদী নন, তাঁর মন্ত্রিসভার পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর নাম এপস্টাইন ফাইলসে পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ যুব কংগ্রেস নেতা সরল প্যাটেলের। একটি এক্সবার্তায় তিনি লিখেছেন, মোদীজি কি তাঁকে বরখাস্ত করবেন, নাকি এমন ভাব দেখাবেন কিছুই ঘটেনি। ওরা আমাদের নেতা রাহুল গান্ধীর বিদেশ সফর নিয়ে চিন্তায় রয়েছে। কিন্তু নিজেরাই জেফ্রি এপস্টাইনের খদ্দের।
দ্য সানডে গার্ডিয়ান লিখেছে, এপস্টাইন ফাইলে বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল ভারতীয়ের নাম তালিকায় রয়েছে। এপস্টাইনের অপরাধজনক যৌনকর্মী-শিশু পাচার নেটওয়ার্কের সঙ্গে নেপথ্য যোগাযোগ ও বৈঠক করিয়ে দেওয়ার সূত্র মিলেছে। যদিও খুব নিখঁতভাবে খতিয়ে দেখে এর প্রামাণ্য তথ্য বিশেষ মেলেনি।
এপস্টাইন ফাইলের তথ্য অনুসারে এপস্টাইন এক স্বঘোষিত ক্ষমতার কেন্দ্রে ঘোরা ব্রোকার বা দালাল। যিনি ভারতের কৌশলগত আলোচনা করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা থাকা লোকজনের সঙ্গে। এরই বিরুদ্ধে দেশের বিরোধী দল সরকারের কাছে স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতার দাবি তুলেছে। কিন্তু, সরকার একে কোনও গুরুত্ব দিতে চাইছে না।
২০১৯ সালের একটি প্রামাণ্য ই-মেল থেকে জানা গিয়েছে, এপস্টাইন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাক্তন পরামর্শদাতা স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। চিন-বিরোধী কৌশল রূপায়ণে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে এপস্টাইনের লেখায় পাওয়া গিয়েছে, মোদী অন বোর্ড কথাটি। ই-মেলে এপস্টাইনে এই আলোচনায় বসার চেষ্টা করলেও সরকারিভাবে এমন কোনও বৈঠকের প্রমাণ নেই।
এছাড়াও হরদীপ সিং পুরীর নাম এপস্টাইনের প্রামাণ্য সাক্ষাৎসূচিতে অন্তত পাঁচবার মিলেছে। সময়কাল হল ২০১৪-২০১৭ সাল। সেই সময় পুরী ছিলেন আন্তর্জাতির পিস ইনস্টিটিউটের সহ সভাপতি। যা কিনা এপস্টাইনের অর্থপুষ্ট একটি সংস্থা, যার কূটনৈতিক পদে ছিলেন পুরী। এই সংস্থার কাজই ছিল অভিজাত যোগসূত্র রচনা করে দালালি সংগ্রহ করা। একটি ভাইরাল হওয়া সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বলছে, এপস্টাইন সেই সময় পুরীকে গার্লস সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্তে তা নাকচ হয়ে গিয়েছে।
মার্কিন হাউস ওভারসাইট কমিটির রেকর্ড বলছে, ভারতীয় ধনকুবের শিল্পপতি অনিল আম্বানি ২০১৭ সালের মার্চে এপস্টাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। বিষয়টি ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রথম সরকারি ওয়াশিংটন ডিসি সফরের সময়কার। যদিও এখনও পর্যন্ত এপস্টাইনের অপরাধমূলক কাজকর্মের অভিযোগের সঙ্গে ভারতীয় কোনও অভিজাত ব্যক্তি বা নেতার যুক্ত থাকার প্রমাণ মেলেনি।
তা সত্ত্বেও কংগ্রেস এবং অন্য বিরোধী দলগুলি এই প্রমাণগুলি হাতে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী মোদীর কার্যালয়কে জবাব দেওয়ার চাপ দিয়েছে। কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি স্পষ্টভাবে এই ফাইলে নাম থাকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। বিরোধীদের অভিযোগকে বোকা বোকা ও ভুল তথ্যনির্ভর বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।