এর আগে তেহরান এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র জেরুজালেমে প্রয়োগ করেছে।

ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ফতেহ।
শেষ আপডেট: 18 June 2025 17:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েলের হামলার জবাবে বুধবার শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ দ্রুতগামী মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ফতেহ-১ ব্যবহার করেছে ইরান। এর গতি ও প্রযুক্তি এতই আধুনিক যে, ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী আয়রন ডোম ও অ্যারো একে নষ্ট করতে পারেনি। তবে এই প্রথম নয়, এর আগে তেহরান এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র জেরুজালেমে প্রয়োগ করেছে। সূত্রের খবর, দ্বিতীয় অপারেশন ট্রু প্রমিস চলাকালে ইজরায়েলের বুকে কয়েক ডজন ফতেহ মেরেছে ইরান।
হাইপারসনিক বিশেষণটি ব্যবহার করা হয় হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেলস কিংবা হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে। এগুলি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র। যা মাঝআকাশে শত্রুর চোখে ধুলো দিতে বা ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী হামলা এড়াতে যাত্রাপথ বদলে সক্ষম। অর্থাৎ এঁকেবেঁকে নিজেকে নিয়ন্ত্রিত করতে পারে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ গতিতে গিয়ে আছড়ে পড়তে পারে শত্রুর জমিতে। যার পিছু ধাওয়া করা কিংবা অকেজো করা সাধ্যাতীত।
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র যায় মাক ৫ অথবা শব্দের চেয়ে ৫ গুণ গতিতে। তবে অধিকাংশ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই এ জাতীয় হয়ে থাকে। ২০২৩ সালে ইরানের প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ফতেহ-র প্রকাশ ঘটে। এর নাম রাখা হয়েছে ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের নামে।
ইসলামি রেভলিউশনারি গার্ড কোর একে ইজরায়েল-ঘাতী বলে আখ্যা দিয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি লম্বায় ১২ মিটার। প্রায় ১৪০০ কিমি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি চলে কঠিন জ্বালানিতে। ২০০ কেজির মতো বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যা ১৬,০০০ কিমি গতিতে ছুটে যেতে পারে। তবে এটি মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র গ্রুপে পড়ে।
ইরানের ফতেহ-র সঙ্গে পাকিস্তানের ফতেহ ১ এবং ফতেহ ২-এর কোনও তুলনা হয় না। পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পরীক্ষিত। যার সর্বোচ্চ পাল্লা হচ্ছে ২৫০-৪০০ কিমি। ফতেহ ১-এর পাল্লা আরও কম মাত্র ১৫০ কিমি। সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় সেনাবাহিনী পাকিস্তানি এই ক্ষেপণাস্ত্রকে হরিয়ানার সিরসায় ভেঙে দিয়েছিল।