ইরানের ৬ দশকের শীর্ষ নেতা খামেনিইকে দেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রূপায়কের ক্ষমতা থেকে অপসারিত করা হয়েছে।

ইরাকের একদা স্বৈরশাসক সাদ্দাম হুসেনের মতো খামেনিইকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ‘খতম’ করতে চায় আমেরিকা।
শেষ আপডেট: 18 June 2025 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত ইরানের ‘বৃদ্ধ শাহজাহান’ আয়াতুল্লা খামেনিইর ‘বুদ্ধিভ্রংশ’ হয়ে গিয়েছে। তিনি নিজে থেকে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা তুলে দেননি। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের ৬ দশকের শীর্ষ নেতা খামেনিইকে দেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রূপায়কের ক্ষমতা থেকে অপসারিত করা হয়েছে। কারণ হিসেবে জানা গিয়েছে, ইজরায়েলি হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে খামেনিইয়ের মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থায় তাঁকে সপরিবারে একটি বাঙ্কারে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। যদিও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, খামেনিই কোথায় ঘাপটি মেরে আছেন, তা জানেন তিনি। তবে এখনই খামেনিইকে খতম না করে আলোচনার সুযোগ দিতে চেয়েছেন। ইরাকের একদা স্বৈরশাসক সাদ্দাম হুসেনের মতো খামেনিইকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ‘খতম’ করতে চায় আমেরিকা।
আয়াতুল্লা খামেনিইর ঘনিষ্ঠ শাগরেদদের ইজরায়েলি বাহিনী শুক্র, শনি ও রবিবারের মধ্যেই খতম করে দেয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, একের পর এক সেনাধ্যক্ষ ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের মৃত্যু খামেনিইর মনের উপর বিরাট প্রভাব ফেলেছে। তাই এই মুহূর্তে বিরাট কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় তিনি নেই। ৮৬ বছরের বৃদ্ধ খামেনিইর মন ভেঙে যাওয়ায় ইরানের সেনা ও গোয়েন্দা বিভাগ তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কাজে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজনেরও হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানাচ্ছে, ঘনিষ্ঠ নেতাদের মৃত্যুশোকে খামেনিইর মধ্যে মানসিক বিচলন এসেছে। তিনি আবেগ ও মন ভেঙে যাওয়া কথাবার্তা বলতে শুরু করেছেন। সে কারণে বাকিদের মনে হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে খামেনিই দেশ নেতৃত্ব দেওয়ার মতো শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। সেই মতো সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ও পদস্থ সেনা অফিসাররা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে খামেনিইকে সিদ্ধান্ত নিরূপণের ক্ষমতা থেকে অপসারিত করেছেন।
ইজরায়েলি হানার পরেই খামেনিই একটি বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ছেলে মোজতবা সহ গোটা পরিবার। উত্তর-পূর্ব তেহরানের লাভিজান এলাকায় মাটির নীচে একটি বাঙ্কারে লুকিয়ে রয়েছেন তাঁরা। যদিও খামেনিইয়ের অপর দুই ছেলে মাসুদ ও মোস্তাফা তাঁর সঙ্গে নেই। উল্লেখ্য, খামেনিইর হঠাৎ করে কিছু ঘটে গেলে কিংবা দেশের পটপরিবর্তন ঘটলে তাঁর পদাভিষিক্ত হওয়ার তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন ৫৬ বছর বয়সি দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা।