সূত্র, তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাটির নিচে একটি বাঙ্কারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে খামেনেই এবং তাঁর পরিবারকে।

ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই
শেষ আপডেট: 18 June 2025 08:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপের আঁচ গনগনে। এই নিয়ে ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধ (Iran Israel conflict 2025) ষষ্ঠ দিনে গড়াল বুধবার। এর মধ্যেই বড় এক রাজনৈতিক পরিবর্তন দেখল তেহরান (Tehran)। ইরানের (Iran) ৮৬ বছর বয়সি সুপ্রিম লিডার তথা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei) তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করলেন সামরিক নেতৃত্বের সর্বোচ্চ সংগঠন সুপ্রিম কাউন্সিল অফ দ্য ইরানিয়ান মিলিটারি ও ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর হাতে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাটির নিচে একটি বাঙ্কারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে খামেনেই এবং তাঁর পরিবারকে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর ছেলে মুজতবা খামেনেই-ও।
এই গোপন পদক্ষেপ একদিকে যেমন ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনই সারা বিশ্বের কাছে বার্তা দিচ্ছে যে, পরিস্থিতি কতটা সঙ্কটজনক হয়ে উঠেছে। বুধবারও দুই দেশের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলেছে। কেউই পিছু হটতে রাজি নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর মধ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছেন তেহরানকে। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা জানি ওই তথাকথিত ‘সুপ্রিম লিডার’ কোথায় লুকিয়ে আছে। আমরা তাকে ‘খতম’ করব না, অন্তত এখনই না। কিন্তু আমাদের ধৈর্য ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে।’ তিনি আরও বলেন, ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হবে।
ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে দীর্ঘ এক বৈঠক করেন। ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে আমেরিকার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বৈঠকের পর ট্রাম্প ফোনে কথা বলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে। হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, আমেরিকা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।
এই আক্রমণে ইরানের বহু ক্ষতি হয়েছে। আমেরিকার সাহায্যে ইজরায়েল চাইলেই স্থায়ীভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিকে ধ্বংস করতে পারে।
১৯৮৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইরানের সেনাবাহিনী, বিচারব্যবস্থা ও কূটনৈতিক কাঠামোর ওপর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ রেখেছেন খামেনেই। কিন্তু সাম্প্রতিক ইজরায়েলি বিমান হানায় একাধিক শীর্ষ সেনা কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ- আলি শাদমানি।
রয়টার্সের রিপোর্ট বলছে, খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ কমান্ড স্ট্রাকচারে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা ইরানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘খামেনেইকে হত্যা করলেই এই সংঘাতের অবসান ঘটবে। এটা নতুন করে আগুন লাগাবে না, বরং নিভিয়ে দেবে।’
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কূটনৈতিক স্তরে এক বিপজ্জনক সময়- কারণ এটা সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার ইঙ্গিত।
এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইরানে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২৪ জন, এবং ইজরায়েলে মৃতের সংখ্যা ২৪। বাস্তবিক অর্থেই এই যুদ্ধ শুধুমাত্র রণনীতির নয়, বরং আঘাত করছে দুই দেশের নাগরিক জীবনকেও।