প্রশ্ন ওঠে, যদি ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে কোনও শান্তিচুক্তি হয়, তাহলে কি ভারতের উপর থেকে অতিরিক্ত শুল্ক তুলে নেওয়া হবে? ট্রাম্পের জবাব, “তা পরে স্থির করা হবে।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 7 August 2025 09:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক (Tariff) চাপানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের সতর্কবার্তা দিলেন নয়াদিল্লিকে। তিনি জানালেন, রাশিয়া থেকে তেল (Russian Crude Oil) কেনা বন্ধ না করলে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ (Secondary Sanction) বা দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে ভারত (India)।
একটি সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “এখনও আট ঘণ্টাও পেরোয়নি। কী হয়, সেটা দেখা যাক। তবে এটুকু বলছি, আরও অনেক কিছু আসছে। অনেক সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আসতে চলেছে।” প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর রাশিয়ার (Ukraine-Russia War) সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলির উপর আরও বাড়তি কড়াকড়ি আসতে চলেছে।
ওভাল অফিসে আয়োজিত এক প্রশ্নোত্তর পর্বে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয় - চিনও রাশিয়া থেকে তেল কিনছে, অথচ ভারতকেই কেন নিশানা করা হচ্ছে? জবাবে তিনি বলেন, “সময় দিন। বাকিটা খুব শিগগিরই দেখতে পাবেন।”
একইসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, যদি ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে কোনও শান্তিচুক্তি হয়, তাহলে কি ভারতের উপর থেকে অতিরিক্ত শুল্ক তুলে নেওয়া হবে? ট্রাম্পের জবাব, “তা পরে স্থির করা হবে।”
এর আগে হোয়াইট হাউস থেকে জারি হওয়া এক নির্বাহী আদেশে জানানো হয়, ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হচ্ছে। এর ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০ শতাংশ। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ২৭ অগস্ট থেকে, অর্থাৎ স্বাক্ষরের ২১ দিনের মাথায়।
ইতিমধ্যে ভারত এই সিদ্ধান্তের চরম বিরোধিতা করেছে। নয়াদিল্লির স্পষ্ট কথা, 'এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং দুর্ভাগ্যজনক। ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে।'
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'আমরা এর আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছি, ভারতের তেল আমদানি সম্পূর্ণ বাজার নির্ভর এবং দেশের ১৪০ কোটি মানুষের এনার্জি সিকিউরিটির কথা ভেবেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুধু ভারত নয়, বহু দেশই একইভাবে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে। অথচ শুধু ভারতকেই নিশানা করছে আমেরিকা, এটা অবাঞ্ছিত ও পক্ষপাতদুষ্ট।'