তেল বাণিজ্য নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ট্রাম্প ভারতকে অনবরত ব্ল্যাকমেল করে চলেছেন। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকি হচ্ছে, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে অন্য দেশকে বেচছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 5 August 2025 16:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্ল্যাকমেলিংয়ের মঙ্গলবার কড়া ভাষায় জবাব দিল রাশিয়া। তেল বাণিজ্য নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ট্রাম্প ভারতকে অনবরত ব্ল্যাকমেল করে চলেছেন। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকি হচ্ছে, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে অন্য দেশকে বেচছে। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে শুল্কহারে আরও বোঝা চাপাবে আমেরিকা। অর্থাৎ এককথায় নয়াদিল্লিকে সরাসরি ভয় দেখিয়ে রুশ-ভারত বাণিজ্য চুক্তি বন্ধ করার চাপ দিয়ে চলেছেন ট্রাম্প।
রাশিয়া এর জবাবে ট্রাম্পের মুখের উপর জানিয়ে দিয়েছে, যে কোনও সার্বভৌম দেশের বাণিজ্য-বন্ধু বাছাইয়ের অধিকার রয়েছে। আমেরিকা ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতের উপর অবৈধ বাণিজ্য চাপ প্রয়োগ করছে। রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত তেল কিনলে শুল্কহার বাড়িয়ে দেওয়ার মার্কিন প্রশাসনের হুমকিকে কঠোর নিন্দা করে ক্রেমলিন। বলেছে, সার্বভৌম দেশের অধিকার রয়েছে, তারা নিজের মনের মতো বাণিজ্য অংশীদার বাছাই করতে পারে।
সোমবার রাতে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ভারত শুধু বিপুল পরিমাণে রাশিয়ার তেল কিনছে না, বরং সেই তেলের বড় অংশ খোলা বাজারে বিক্রি করে লাভ করছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনে কত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তা নিয়েও ভারতের কোনও মাথাব্যথা নেই। এ কারণেই আমি ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক আরও বাড়াব। যদিও জরিমানার অঙ্ক স্পষ্ট করেননি তিনি।
রাশিয়ার (Russia) থেকে তেল কেনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যখন ভারতকে শুল্ক (Tariff) বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন, ঠিক তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ভারত (India)। আমেরিকা (US) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে সরাসরি আঙুল তুলেছে নয়াদিল্লি।
🚨🇮🇳🇷🇺 Sovereign nations have RIGHT TO CHOOSE their own trading partners: Kremlin on India's purchase of Russian oil https://t.co/O39uDkixWW pic.twitter.com/3GaMNcm4rJ
— Sputnik India (@Sputnik_India) August 5, 2025
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার জেরেই রাশিয়া থেকে ডিসকাউন্টে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় আমেরিকাও ভারতের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছিল, যাতে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল থাকে।