ট্রাম্পের সাফ কথা, ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে মস্কোর অর্থনীতিকে সাহায্য করছে। এতে মদত দেওয়া হচ্ছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধেও। তাই ভারতকে শাস্তি দিতে এই অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো জরুরি। এসব অবশ্য পাত্তা দিতে রাজি নয় দিল্লি।

ট্রাম্প ও মোদী
শেষ আপডেট: 6 August 2025 22:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ফের একবার ভারতের উপর শুল্কের কোপ বসালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত ট্রেড ট্যারিফ ঘোষণা করে মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামিকাল থেকে ২১ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২৭ অগস্ট থেকে কার্যকর হবে নতুন শুল্ক হার। এতে মোট আমদানি শুল্ক দাঁড়াল ৫০ শতাংশ। প্রতিবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিল দিল্লি। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, 'এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং দুর্ভাগ্যজনক। ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে।'
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'আমরা এর আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছি, ভারতের তেল আমদানি সম্পূর্ণ বাজার নির্ভর এবং দেশের ১৪০ কোটি মানুষের এনার্জি সিকিউরিটির কথা ভেবেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুধু ভারত নয়, বহু দেশই একইভাবে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে। অথচ শুধু ভারতকেই নিশানা করছে আমেরিকা, এটা অবাঞ্ছিত ও পক্ষপাতদুষ্ট।'
এই সিদ্ধান্তকে 'চাপ সৃষ্টিকারী এবং অভ্যন্তরীণ নীতিতে হস্তক্ষেপ' বলেও ব্যাখ্যা করেছে কেন্দ্র।
ট্রাম্পের সাফ কথা, ভারত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে মস্কোর অর্থনীতিকে সাহায্য করছে। এতে মদত দেওয়া হচ্ছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধেও। তাই ভারতকে শাস্তি দিতে এই অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো জরুরি। তাঁর দাবি, 'ভারত বিপুল পরিমাণে রাশিয়ার তেল কিনছে। এমনকি সেই তেল খোলা বাজারেও বিক্রি করছে। ওরা কেয়ারই করছে না কত মানুষ ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রের জেরে মারা যাচ্ছেন। তাই ভারতের উপর ট্যারিফ অনেকটাই বাড়ানো হবে।'
সেইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প, কেউ যদি এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাল্টা পদক্ষেপ করে, তবে এই আদেশে আরও পরিবর্তন করে কার্যকারিতা বাড়ানো হবে।
এদিকে ট্রাম্পের এই শুল্কবৃদ্ধিকে অবৈধ বলেছে রাশিয়া। মস্কোর মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, 'আমরা বহু বার শুনেছি, বিভিন্ন দেশকে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ছিন্ন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ধরনের চাপে বাধ্য করার চেষ্টা বেআইনি এবং আমরা তা মানি না।'
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফেব্রুয়ারির মার্কিন সফরের সময়ই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেছিলেন। যদিও সেই শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত ছিল। কিন্তু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় মিল না হওয়ায় ফের কঠোর সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
দিল্লি যদিও শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিদেশনীতি ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ভারতকে কোনওভাবে চাপে ফেলা যাবে না।