ট্রাম্পের কথায়, এমন কোনও ঘটনার ক্ষেত্রে ইরানকে 'পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা হবে'। এই মন্তব্যকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধংদেহী বাক্যবিনিময় নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 21 January 2026 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) ফের প্রকাশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানকে (Iran)। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যদি কখনও ইরান তাঁর উপর হামলা করতে বা তাঁকে হত্যার চেষ্টা করতে চায়, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
ট্রাম্পের কথায়, এমন কোনও ঘটনার ক্ষেত্রে ইরানকে 'পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা হবে' (Iran US Conflict)। এই মন্তব্যকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধংদেহী বাক্যবিনিময় নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে।
একদিকে ইজরায়েল (Israel) এবং অন্যদিকে আমেরিকা (USA) - ইরানকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তারা হয়তো প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ইতিমধ্যে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন - ইরান হামলা করলে পাল্টা এমন হামলা করা হবে যা তারা কল্পনাই করেনি। আর এখন ট্রাম্প বললেন, ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলবেন তাঁরা!
এর আগে অবশ্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে (Ayatolla Ali Khameini) প্রতি সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে মুখ খোলেন ইরানের সেনা আধিকারিক জেনারেল আবোলফজল শেখারচি। বলেন, পরিস্থিতি উল্টো হলে ইরান কোনও ভাবেই সংযম দেখাবে না - এ কথা ট্রাম্প ভাল করেই জানেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, “আমাদের নেতার দিকে যদি আগ্রাসনের হাত বাড়ানো হয়, আমরা শুধু সেই হাত কেটে ফেলব না। এটা কোনও স্লোগান নয়। আমরা গোটা অঞ্চলকে আগুনে জ্বালিয়ে দেব এবং ওদের জন্য কোথাও নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না।”
উল্লেখ্য, ট্রাম্প আগেও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। গত বছর হোয়াইট হাউসে ফেরার কিছু দিনের মধ্যেই তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইরান যদি এই ধরনের কোনও পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' করা হবে।
এই উত্তপ্ত কূটনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান দেশের ভিতরে গভীর সঙ্কটে রয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় সরকার-বিরোধী আন্দোলনের ঢেউ এখনও পুরোপুরি স্তিমিত হয়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই আন্দোলন দমন করতে গিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪,০০০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে নরওয়ের ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ সংগঠনের মতে, কঠোর যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা কঠিন। তাদের দাবি, নিহতের সংখ্যা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সর্বোচ্চ হিসাব যা ২০,০০০ পর্যন্ত পৌঁছেছে - তাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।
ডিসেম্বর মাসে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যখন দেশের মুদ্রা নতুন করে তলানিতে ঠেকে। ৮৬ বছর বয়সি আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক সংস্কার রুখে রাখার অভিযোগ রয়েছে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রবাসী মহলের একাংশ, এমনকি নির্বাসিত নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী শিরিন এবাদিও, তেহরানের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমেরিকার হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন। এবাদি প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ কমান্ডারদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হোক।