ট্রাম্পের শেয়ার করা একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি নিজে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গ্রিনল্যান্ডের বরফে দাঁড়িয়ে মার্কিন পতাকা উত্তোলন করছেন।
.jpeg.webp)
ট্রাম্পের পোস্ট করা ছবি
শেষ আপডেট: 20 January 2026 16:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড (Donald Trump) ট্রাম্প ফের একবার গ্রিনল্যান্ড ঘিরে নিজের দাবিকে প্রকাশ্যে এনে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক ছবি ও মন্তব্য পোস্ট করে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন - গ্রিনল্যান্ড (Greenland) তাঁর কাছে শুধু কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ট্রাম্পের শেয়ার করা একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি নিজে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance) এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) গ্রিনল্যান্ডের বরফে দাঁড়িয়ে মার্কিন পতাকা উত্তোলন করছেন। ছবিটির পাশে একটি বোর্ডে লেখা - GREENLAND – US TERRITORY, EST. 2026”।
এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। একই দিনে ট্রাম্প আরেকটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে ওভাল অফিসে বসে থাকা ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক শীর্ষ নেতার পেছনে একটি বদলে দেওয়া মানচিত্র দেখা যায়। সেই মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ড, কানাডা এবং ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা ঘিরে কূটনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ন্যাটো-র সাধারণ সম্পাদক মার্ক রুট্টের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে “খুব ভাল ফোনালাপ” করেছেন। তাঁর কথায়, গ্রিনল্যান্ড জাতীয় এবং বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। ট্রাম্প আরও লিখেছেন, “এই বিষয়ে আর পিছনে ফেরার কোনও সুযোগ নেই - এতে সবাই একমত।” তাঁর এই মন্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
ট্রাম্পের যুক্তি অনুযায়ী, আর্কটিক অঞ্চলে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বারবার দাবি করেছেন, রাশিয়া ও চিনের প্রভাব মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন এবং ডেনমার্কের একার পক্ষে এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। এই বক্তব্য ঘিরেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত।
ডেনমার্কের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের এমন পোস্ট আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং ডেনমার্কের অধিকার নিয়ে কোনও আপস করা হবে না। ইউরোপীয় নেতারা এই ইস্যুতে একজোট হওয়ার বার্তাও দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিতর্ক কেবলমাত্র মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অংশ নয়। বরং আর্কটিক অঞ্চলের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব, প্রাকৃতিক সম্পদ, সামরিক ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক মিত্রতা—সব মিলিয়ে এটি একটি জটিল বৈশ্বিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের ছবি ও মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনাকে নতুন করে তীব্র করেছে, যার প্রভাব আগামী দিনে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কী ভাবে পড়বে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্ব।