ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে বন্দি করার পর থেকে সেই রাস্তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ভেনেজুয়েলার সমস্ত তেলের উপরে দখলদারি চাপিয়েছেন ট্রাম্প।
_0.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 19 January 2026 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপ্রত্যাশিত! যা কোনওদিন দেখা যায় না, সোমবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দুর্গতির দিকে তাকিয়ে সেটাই করে বসলেন প্রবল হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (India PM Narendra Modi)। মাত্র ২ ঘণ্টার জন্য এদিন নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নায়ান (Sheikh Mohamed bin Zayed Al Nahyan) এসেছিলেন।
প্রচলিত রীতিনীতি ভেঙে তাঁকে স্বাগত জানাতে যান মোদী (PM broke from protocol to greet him)। সেখানে তাঁকে দেখে আচমকাই জড়িয়ে ধরেন প্রধানমন্ত্রী, যা প্রায় দেখাই যায় না। প্রশ্ন উঠেছে, গেরুয়া শিবিরের ধ্বজাবাহী প্রধানমন্ত্রীর এহেন আচরণ নিয়ে। অনেকের ধারণা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে রুশ তেল কিনতে নিষেধ করে দিয়েছেন। যদিও লাতিন আমেরিকার তথা বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদক দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনত ভারত।

ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) অপহরণ করে বন্দি করার পর থেকে সেই রাস্তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ভেনেজুয়েলার সমস্ত তেলের উপরে দখলদারি চাপিয়েছেন ট্রাম্প। এই অবস্থায় আরব দুনিয়ার তেলের উপর ভরসা করতে হবে নয়াদিল্লিকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেকারণেই (India oil supply crisis) আমিরশাহির প্রেসিডেন্টকে দেখে এরকম গদগদ ভঙ্গিমায় মোদী তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে চলে যান। রীতি অনুযায়ী, কোনও দেশের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান সেই দেশের প্রেসিডেন্ট। কিন্তু মাত্র ২ ঘণ্টার সফরেই আমিরশাহির প্রেসিডেন্টকে জড়িয়ে ধরে মোদী তেল আমদানির দরজা খুলে রাখার চেষ্টা করলেন বলে অনেকের মত।
নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে বেশ কিছু ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “আমার ভাইকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে এলাম। তাঁর এই সফর প্রমাণ করে, ভারতের সঙ্গে আমিরশাহির বন্ধুত্বকে তিনি কতটা গুরুত্ব দেন। আলোচনার জন্য অপেক্ষা করছি।”
আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট ভারতের আমন্ত্রণে এবার সরকারি সফরে এসেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটি তাঁর তৃতীয় ভারত সফর এবং গত দশ বছরে পঞ্চম বার ভারতে এলেন। এই সফর দুই দেশের সাম্প্রতিক যোগাযোগকে আরও এগিয়ে নেবে। এর আগে ২০২৪ সালে আবু ধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ এবং ২০২৫ সালে দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান ভারত সফর করেছিলেন।
'অপারেশন সিঁদুর' চলাকালীন পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, এমনটাই দাবি করেছিল শাহবাজের সরকার। প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানাতে গত বছর জুনে আমিরশাহিও গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর জন্যই এই সফর বলে দাবি করেছিল ইসলামাবাদ।
অন্যদিকে, কিছু সময়ে আগেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস দুবাই সফরে গিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ক্রীড়ামন্ত্রী ডক্টর আহমেদ বেলহুল আল ফালাসি সহ কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেইসময়ে ইউনুস সরকার দাবি করেছিল, আমিরশাহি তাদের পাশে আছে। কিন্তু এসবের মধ্যেই সেখানকার প্রেসিডেন্ট ভারত সফরে এলে মোদীর উষ্ণ অভ্যর্থনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল।