Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

ভারত-বিরোধী সুর চড়াচ্ছেন ইউনুস? চিকেনস নেকের কাছে তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে চিনা দূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত (Bangladesh) চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন (Yao Wen) গত রবিবার সেদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের (Khalilur Rahman) সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, তিনি ভারতের কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডর (Siliguri Corridor), অর্থাৎ ‘চিকেনস নেক’ (Chicken’s Neck)-এর কাছাকাছি তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাবেন।

ভারত-বিরোধী সুর চড়াচ্ছেন ইউনুস? চিকেনস নেকের কাছে তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে চিনা দূত

রবিবার চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার দফতরে (Chief Adviser’s Office) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

শুভেন্দু ঘোষ

শেষ আপডেট: 19 January 2026 17:16

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সঙ্গে জলবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার মধ্যেই উত্তরবঙ্গের তিস্তা নদী (Teesta River) ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক ও কৌশলগত (Geostrategic) উত্তেজনা তৈরি হতে চলেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত (Bangladesh) চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন (Yao Wen) গত রবিবার সেদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের (Khalilur Rahman) সঙ্গে বৈঠকের পর জানানতিনি ভারতের কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডর (Siliguri Corridor), অর্থাৎ ‘চিকেনস নেক’ (Chicken’s Neck)-এর কাছাকাছি তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাবেন।

তিস্তা ঘিরে বিক্ষোভ ও চিনের ভূমিকা

গত অক্টোবরে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগে (Rangpur Division) পাঁচটি জেলাজুড়ে মশাল মিছিল (Torchlight Rallies) হয়। বিক্ষোভকারীরা তিস্তা নদীর ‘সম জলবণ্টন’ (Fair Share of Water) এবং চিন-সমর্থিত তিস্তা নদী মাস্টার প্ল্যান (Teesta River Master Plan) বাস্তবায়নের দাবি তোলেন। একই সময়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও (Chattogram) বিশাল সমাবেশ হয়। কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের মতেভারতের সঙ্গে জলবণ্টন আলোচনা (Teesta Water Sharing Talks) থমকে থাকার সময়ে বেজিংয়ের (Beijing) নাক গলানো নয়াদিল্লির (New Delhi) কাছে গুরুতর ঝুঁকির কারণ (Strategic Risk) হতে পারে। বিশেষ করে জায়গাটি শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি হওয়ায়।

ইউনুস প্রশাসন ও চিনের ঘনিষ্ঠতা

রবিবার চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার দফতরে (Chief Adviser’s Office) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। মহম্মদ ইউনুসের (Muhammad Yunus) এক্স হ্যান্ডল অনুযায়ীআলোচনায় উঠে আসে তিস্তা নদীর সর্বাত্মক ব্যবস্থাপনা ও সংস্কার প্রকল্প (Teesta River Comprehensive Management and Restoration Project) এবং প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চিন মৈত্রী হাসপাতাল (Bangladesh–China Friendship Hospital)। ইউনুসের এক্স পোস্টে বলা হয়এই প্রেক্ষাপটে ইয়াও ওয়েন তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের কথা জানান এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত সমীক্ষা (Technical Assessment) শেষ করার বিষয়ে চিনের প্রতিশ্রুতির কথা আবার জানান।

ইউনুসের ভারত-বিরোধী সুর 

২০২৪ সালের অগস্টে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইউনুসের অন্তর্বর্তী প্রশাসন (Interim Administration) ক্রমশ ভারত-বিরোধী অবস্থান (Anti-India Stand) কঠোর করেছে বলে অভিযোগ। দণ্ডিত জঙ্গি জসিমউদ্দিন রহমানির (Jashimuddin Rahmani) মুক্তিইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা (State Patronage) এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (India’s Northeast) ও সার্ক (SAARC) নিয়ে ইউনুসের উসকানিমূলক মন্তব্য সেই ইঙ্গিতই দেয়। বাংলাদেশের রাস্তায় রাস্তায় ভারত-বিরোধী স্লোগানসহ (Anti-India Slogans) বিক্ষোভে প্রশাসনের নীরবতা বা প্রশ্রয়ক্রিকেট সম্পর্কের টানাপড়েন (Cricketing Ties), ভিসা নিয়ন্ত্রণ (Visa Curbs) ও কূটনৈতিক চাপ— সব মিলিয়ে ঢাকার অবস্থান যে সচেতনভাবে বদলাচ্ছেতা স্পষ্ট।

তিস্তা মাস্টার প্ল্যান কীকেন চিনের আগ্রহ 

তিস্তা নদীর উৎস (Origin) সিকিমের (Sikkim) পূর্ব হিমালয়ে। নদীটি উত্তরবঙ্গের (North Bengal) মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে রংপুরলালমণিরহাটনীলফামারি ও কুরিগ্রাম (Lalmonirhat, Nilphamari, Kurigram) জেলা পেরিয়ে ব্রহ্মপুত্রে (যমুনা) মিশেছে।

বাংলাদেশের জন্য তিস্তা উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জীবিকার (Agriculture and Livelihoods) প্রাণরেখা। একইভাবে ভারতের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আপত্তির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই জলবণ্টন চুক্তি (Water Sharing Agreement) চূড়ান্ত হয়নি। শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) সরকার পতনের পর এই অচলাবস্থা বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী শিবিরের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। হাসিনার আমলে ভারতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেওইউনুস প্রশাসন স্বাভাবিকভাবেই বেজিংয়ের দিকে ঝুঁকছে।

কেন দিল্লির জন্য ঝুঁকির কারণ

চিন-সমর্থিত তিস্তা মাস্টার প্ল্যানে (China-backed Teesta Master Plan) নদী খনন (Dredging), বাঁধ ও জলাধার নির্মাণ (Reservoirs), কৃষিজমি পুনরুদ্ধার এবং সারাবছর জল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। কার্যত তিস্তা নদীকে চিনা অর্থ ও প্রযুক্তিতে (Chinese Capital and Technology) একটি নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক করিডরে (Engineered Economic Corridor) রূপান্তরের ছক কষছে বাংলাদেশ। ভারতের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল, এই প্রকল্পের অবস্থান শিলিগুড়ি করিডরের একেবারে কাছে। এর পাশাপাশি লালমণিরহাটে (Lalmonirhat Airbase) পুরনো বিমানঘাঁটি সক্রিয় করার উদ্যোগেও চিনা উপস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।

যদিও বাংলাদেশ সেনার এক শীর্ষ আধিকারিক ২০২৫ সালের মে মাসে দাবি করেনবিমানঘাঁটি শুধুই ‘জাতীয় প্রয়োজনে’ (National Needs) চালু হচ্ছে এবং চিনা ভূমিকার কোনও তথ্য নেই। বিশেষজ্ঞদের মতেএই দুটি প্রকল্পই ভারতের সীমান্তের এত কাছে যেচিনের নজরদারি ও সামরিক সক্ষমতা (Surveillance and Reconnaissance) বহুগুণ বাড়তে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের (Yao Wen) প্রস্তাব নিছক উন্নয়নমূলক সফর নয়। ‘চিকেনস নেক’-এর (Chicken’s Neck) এত কাছে চিনা কূটনৈতিক উপস্থিতি ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল কৌশলগত প্রবেশদ্বার (Strategic Chokepoint) ঘিরে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মত কূটনৈতিক মহলের।


```