শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার সময় কোনও ভোটার চাইলে একজন সঙ্গী নিয়ে যেতে পারেন। সেই সঙ্গী যদি বিএলএ হন, তাতেও কোনও বাধা নেই।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 19 January 2026 17:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিএলএদের (BLA) শুনানিতে (SIR Hearing) উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক, টানাপড়েন চলছিল। সেই প্রসঙ্গে এ দিন সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) স্পষ্ট জানিয়ে দিল, শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার সময় কোনও ভোটার চাইলে একজন সঙ্গী নিয়ে যেতে পারেন। সেই সঙ্গী যদি বিএলএ হন, তাতেও কোনও বাধা নেই। অর্থাৎ, এবার থেকে শুনানির সময় বিএলএদের উপস্থিতিতে আর কোনও নিষেধাজ্ঞা থাকল না।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বুথ স্তরের এজেন্টদের (বিএলএ ২) কোনও ভাবেই যেন এসআইআর-এর (West Bengal SIR News) শুনানিকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া না হয়, তা কড়াভাবে দেখার জন্য জেলাশাসকদের জানিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এজেন্টদের প্রবেশাধিকার নিয়ে তৃণমূল যে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে, তার সামনে নতিস্বীকার না করারও বার্তা দেয় কমিশন। বলে, শুনানিকেন্দ্রে কোনও দলের এজেন্ট ঢুকলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।
তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুনানিকেন্দ্রে এজেন্টদের উপস্থিতি সংক্রান্ত অবস্থানের বার্তা দিয়েছিলেন। জানান, এটা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ। তার পরের দিনই হুগলিতে বিধায়ক অসিত মজুমদার তৎপর হয়ে ওঠেন। চুঁচুড়া-মগড়া ব্লক অফিসে গিয়ে শুনানি বন্ধ করে দেন তিনি। বিএলএ-দের কেন শুনানিতে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না, কমিশনের তরফে তার লিখিত ব্যাখ্যা দাবি করেন। প্রায় দু’ঘণ্টা এর জন্য শুনানিপ্রক্রিয়া আটকে ছিল।
এর পরেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে সমস্ত জেলাশাসকের কাছে নির্দেশিকা যায়। তাতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, কোনও রাজনৈতিক দলের এজেন্টকে শুনানির সময় উপস্থিত থাকতে দেওয়া যাবে না। তার জন্য শুনানিপ্রক্রিয়া বন্ধও রাখা যাবে না।
যদিও, সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার সময় কোনও ভোটার চাইলে একজন সঙ্গী নিয়ে যেতে পারেন।
বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR West Bengal) সময় যাঁদের নামে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারের নাম প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
নোটিসের সংখ্যা বিপুল হওয়ায় আদালতের নির্দেশ, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ (Logical discrepancies) তালিকাভুক্ত ভোটারদের নাম গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে টাঙাতে হবে। ওই তালিকার বিরুদ্ধে ১০ দিনের মধ্যে আপত্তি জানানো যাবে এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার জন্য বাড়তি সময়ও দিতে হবে।