ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো তাঁকেই সম্মান জানিয়ে নোবেল গ্রহণ করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মারিয়া করিনা মাচাদো
শেষ আপডেট: 11 October 2025 11:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো (Maria Corina Machado)। কারণ ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার (Nobel Peace Prize) জিতেছেন তিনি। ঘোষণার আগে কৌতূহল বাড়ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) নিয়ে। তিনিও নিজেকে এই পুরস্কারের যোগ্য বলে দাবি করে আসছিলেন। মারিয়া অবশ্য নোবেল জিতে সেই সম্মান উৎসর্গ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। সেই নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্পও।
২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না পেলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে (White House) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো তাঁকেই সম্মান জানিয়ে নোবেল গ্রহণ করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, “আজ যিনি নোবেল পেয়েছেন, তিনি আমাকে ফোন করে বললেন - ‘আমি এই পুরস্কার নিচ্ছি আপনার সম্মানে, কারণ এটা আসলে আপনারই প্রাপ্য।’ আমি কিন্তু বলিনি যে, আমাকে দিন। আমি ওঁকে সাহায্য করেছি বহুবার। ভেনেজুয়েলার বিপর্যয়ের সময় তাদের প্রচুর সাহায্যের প্রয়োজন ছিল। আমি খুশি, কারণ আমি লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচাতে পেরেছি।”
#WATCH | US President Donald J Trump says, "The person who got the Nobel Prize called me today and said, 'I'm accepting this in honour of you because you really deserved it'... I didn't say, 'Give it to me', though. I think she might have... I've been helping her along the… pic.twitter.com/XY1HH1OG5x
— ANI (@ANI) October 10, 2025
ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালানোর স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো। অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি 'সাতটি যুদ্ধ বন্ধ করার' কৃতিত্বের জন্যই নোবেলের যোগ্য ছিলেন। তাঁর কথায়, “আমাকে বলা হয়েছিল, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পারলে নোবেল পাবেন। আমি বলেছিলাম, আমি তো সাতটা যুদ্ধই থামিয়েছি। প্রত্যেকটার জন্য আলাদা নোবেল পাওয়ার যোগ্য আমি।”
তবে নোবেল কমিটির (Nobel Committee) স্পষ্ট বক্তব্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও একনায়কতন্ত্র থেকে শান্তিপূর্ণ উত্তরণের সংগ্রামে তাঁর অনড় ভূমিকার জন্য মাচাদোকে বেছে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের নামে ছলচাতুরী করে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাচাদোই ছিলেন বিরোধীদের প্রধান মুখ। ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি ও গোপনে আত্মগোপনে থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত অগস্ট মাসেই মাচাদো ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেফতারের জন্য পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৫০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করে। সেই প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ভাবমূর্তি এতে ক্ষুণ্ণ হয়নি। বরং মাচাদোর মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি পাওয়ায় তাঁর অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে।