মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের ব্যাখ্যা, তালিকাভুক্ত হওয়া মানে এই নয় যে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার মাদক দমনে নিষ্ক্রিয়। বরং ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে এ ধরনের দেশগুলিতে অবৈধ উৎপাদন বা পাচারের সুযোগ তৈরি হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 18 September 2025 09:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও কড়া ভাষায় একাধিক দেশকে নিশানা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ভারত (India), পাকিস্তান (Pakistan), আফগানিস্তান, মায়ানমার ও চিন-সহ ২৩টি দেশকে বড় মাদক উৎপাদক ও পাচারকেন্দ্র (Drug Producing and Transit) বলে দাবি করেছেন।
হোয়াইট হাউস (White House) জানিয়েছে, এই তথাকথিত তালিকা তৈরি করা হয় মূলত সেই দেশগুলিকে চিহ্নিত করতে, যেখান থেকে অবৈধ মাদক সরাসরি উৎপাদিত হয় বা যাদের ভূখণ্ডকে পাচারের পথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তালিকায় আফগানিস্তান, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, মেক্সিকো-সহ একাধিক দেশ রয়েছে।
এর মধ্যে আফগানিস্তান, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা ও মায়ানমারকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে ট্রাম্প বলেন, এই দেশগুলি মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যত ব্যর্থ।
তবে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের ব্যাখ্যা, তালিকাভুক্ত হওয়া মানে এই নয় যে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার মাদক দমনে নিষ্ক্রিয়। বরং ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে এ ধরনের দেশগুলিতে অবৈধ উৎপাদন বা পাচারের সুযোগ তৈরি হয়।
চিন ও আফগানিস্তানকে সরাসরি আক্রমণ
ট্রাম্প বিশেষভাবে চিনের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, ফেন্টানিল তৈরির মূল কাঁচামাল তথা প্রিকর্সর কেমিক্যালের সবচেয়ে বড় উৎস হল বেজিং। এগুলি কেবল আমেরিকা নয়, গোটা বিশ্বে সিন্থেটিক ড্রাগসের মহামারী ছড়িয়ে দিচ্ছে।
আফগানিস্তান প্রসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি, তালিবান সরকার প্রকাশ্যে মাদক নিষিদ্ধের কথা বললেও, আফিম মজুত ও উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। উল্টে এর থেকেই অর্থ উপার্জন করছে তালিবানের একাংশ। ফলে মার্কিন স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য আফগানিস্তান গুরুতর হুমকি বলেই তিনি মন্তব্য করেছেন।
সন্ত্রাসে মাদকের অর্থ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, অবৈধ মাদকের ব্যবসা সন্ত্রাসবাদ ও আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধকে অর্থ জোগাচ্ছে। বিশেষত ফেন্টানিল পাচার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করেছে। ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সিদের মধ্যে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মাদক।
শুল্ক ইস্যুতে এমনিতেই ভারত-আমেরিকার সম্পর্কে চিড় ধরেছে। যদিও এই মুহূর্তে আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টায়। কিন্তু এরই মধ্যে এবার মাদক ইস্যুতে ট্রাম্পের দাবি শোরগোল ফেলে দিয়েছে। আপাতত নয়াদিল্লির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া না দেওয়া হলেও মনে করা হচ্ছে, বিষয়টি নিয়েও কড়া অবস্থান নেবে মোদী সরকার। কারণ ট্রাম্প পারতপক্ষে পাকিস্তানের সঙ্গে এক আসনে বসিয়ে দিয়েছেন ভারতকে।