পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের কথাতেই স্পষ্ট ট্রাম্প যে দাবি করেছিলেন, তিনি নাকি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি করিয়েছেন - তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার
শেষ আপডেট: 16 September 2025 22:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক (India Pakistan relations) নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি (Trump claim) ভেস্তে দিল ইসলামাবাদই। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার (Pakistan Minister Ishaq Dar) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত কখনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় (third-party mediation) রাজি হয়নি। ফলে ট্রাম্প যে দাবি করেছিলেন, তিনি নাকি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি (ceasefire) করিয়েছেন - তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইশাক দার বলেন, “ভারত বারবার জানিয়েছে, এটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়। আমরা তৃতীয় পক্ষ মেনে নিলেও ভারত তা মানেনি। ভারত চাইলে আলোচনা সম্ভব, কিন্তু জোর করে নয়।” তিনি আরও জানান, সন্ত্রাস, বাণিজ্য, অর্থনীতি, জম্মু-কাশ্মীর সহ সব বিষয়েই ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে পাকিস্তান রাজি, কিন্তু দিল্লি তার কোনও জবাব দেয়নি।
আমেরিকার ভূমিকা ও ট্রাম্পের দাবি
দারের দাবি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন। রুবিও স্পষ্ট জানান, ভারত সবসময় বলে এসেছে এটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়, তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই। অথচ ট্রাম্প মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, “আমার মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।”
কিন্তু ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি সেই সময় স্পষ্ট করেন, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এসেছিল পাকিস্তানের তরফ থেকে। ভারত তৃতীয় পক্ষের কোনও হস্তক্ষেপ মানেনি। মিস্রি জানান, পাকিস্তানের ডিজিএমও ভারতীয় ডিজিএমও-কে ফোন করে যুদ্ধবিরতির আবেদন জানায়। বিকেল ৫টা থেকে গুলি চালানো বন্ধ করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বোঝাপড়া হয়।
জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে পাকিস্তানপন্থী জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর ভারত চালায় অপারেশন সিঁদুর অভিযান। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ৯টি জঙ্গি শিবির ধ্বংস করে ভারতীয় সেনা। জবাবে পাকিস্তান সীমান্ত শহরে হামলা চালায়। চার দিন ধরে টানা পাল্টা হামলার পর পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়। ভারত সেটি শর্তসাপেক্ষে মেনে নেয়, তবে সবসময় বলেছে এটি বাই-ল্যাটারাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং, তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই।
আগেও হয়েছিল ট্রাম্পের দাবি খারিজ
২০১৯ সালেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভারত তাঁকে কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতা করতে বলেছে। তখনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রকাশ্যে সেই দাবি খারিজ করেছিলেন। ভারতের অবস্থান সবসময় স্পষ্ট - ১৯৭১ সালের সিমলা চুক্তির পর থেকে দিল্লি শুধুই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পক্ষপাতী।
ভারতের অবস্থান অটল
প্রধানমন্ত্রী মোদী ১১ মে জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে যেকোনও আলোচনা শুধু সন্ত্রাসবাদ নিয়েই হবে। আর পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরই হবে আলোচনার কেন্দ্র। ট্রাম্পের একতরফা দাবির বিপরীতে ভারত ফের প্রমাণ করল, তৃতীয় পক্ষের কোনও জায়গা নেই ভারত-পাক আলোচনায়।